শাপলা চত্বরের ‘গণহত্যা’র বিচার দাবি হেফাজতের

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত ‘গণহত্যা’র বিচার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের লাখো মানুষের জমায়েতের ওপর তৎকালীন সরকারের পরিকল্পিত অভিযানে বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ নিহত হন এবং হাজার হাজার আলেম, হাফেজ ও সাধারণ মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। তারা ৫ মের নিহতদের স্মরণে দেশব্যাপী দোয়া ও আলোচনাসভার আয়োজনের আহ্বান জানান।

নেতারা আরও বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে শাপলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা দাবি করেন, ২০১৩ সালের ঘটনার যথাযথ প্রতিবাদ হলে পরবর্তীতে “জুলাই ম্যাসাকার” দেখতে হতো না। তারা সে সময়ের রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা, ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীর উসকানি এবং সুশীল সমাজের একাংশের নীরবতাকে ফ্যাসিবাদের উত্থানের জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়া তারা বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরে অবস্থান না নিলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ত। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো হয়েছিল এবং “শাপলার রক্তাক্ত চেতনা” জাগ্রত রাখার আহ্বান জানান।

বিবৃতির শেষাংশে হেফাজত নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার যদি নাগরিকদের মানবিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।