বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে ফিফার আয় ১১ বিলিয়ন ডলার, ক্রিকেট বিশ্বকাপের চেয়ে ১১ গুণ বেশি

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপ যে অর্থনৈতিক দিক থেকেও অনন্য, তা আবারও প্রমাণিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্ট থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা) প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৭১ কোটি টাকা।

তুলনামূলকভাবে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। অর্থাৎ ফুটবল বিশ্বকাপের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেশি।

ফিফার আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস সম্প্রচার স্বত্ব (ব্রডকাস্টিং রাইটস)। এই খাত থেকেই সংস্থাটির আয় হবে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া টিকিট বিক্রি থেকে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, স্পনসরশিপ ও বিপণন কার্যক্রম থেকেও আসবে বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা বিশ্বকাপকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া বাণিজ্যিক ইভেন্টে পরিণত করেছে।

আয়ের দিক থেকে ফিফার আগের রেকর্ড ছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে। ৩২ দলের সেই আসর থেকে মোট ৭.৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল সংস্থাটি। তবে ২০২৬ সালে ৪৮ দলের সম্প্রসারিত ফরম্যাট চালুর ফলে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার, যা কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

রাজস্ব বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পুরস্কারের অর্থও। ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৪ কোটি টাকা। রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ মিলিয়ন ডলার।

এছাড়া তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং চতুর্থ স্থান অধিকারী দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো ৫ম থেকে ৮ম স্থানের প্রতিটি দল পাবে ১৯ মিলিয়ন ডলার করে।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনো দলই খালি হাতে ফিরবে না। ১৭তম থেকে ৩২তম স্থানে থাকা দলগুলো পাবে ১১ মিলিয়ন ডলার করে। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ৩৩তম থেকে ৪৮তম স্থানের দলগুলোর জন্যও রাখা হয়েছে ৯ মিলিয়ন ডলার করে।

এর বাইরে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলকেই প্রস্তুতি ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত ১.৫ মিলিয়ন ডলার করে প্রদান করা হবে।

সব মিলিয়ে, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু মাঠের প্রতিযোগিতা নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, লাভজনক এবং ব্যয়বহুল আয়োজন।