লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড বা ‘টিউব’ নেটওয়ার্কের যাত্রীদের জন্য বড় সুখবর এসেছে। রাজধানীর ভূগর্ভস্থ রেলব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অংশে এখন ৪জি ও ৫জি মোবাইল সেবা চালু হয়েছে। ফলে যাত্রীরা আর মাটির নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল নেটওয়ার্ক হারাবেন না।
ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) এবং বোল্ডিন নেটওয়ার্কস যৌথভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের প্রায় ৬০ শতাংশ স্টেশনে ৪জি ও ৫জি কভারেজ পৌঁছে গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পুরো আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ককে মোবাইল সংযোগের আওতায় আনা হবে।
এই প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের চারটি প্রধান মোবাইল অপারেটর থ্রি, ইই, ভোডাফোন এবং ভার্জিন মিডিয়া ওটু অংশগ্রহণ করছে। এর ফলে প্রতিদিনের লাখো যাত্রী যাতায়াতের সময় ফোনকল, বার্তা আদান-প্রদান, ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং বিভিন্ন অনলাইন সেবা নির্বিঘ্নে ব্যবহার করতে পারবেন।
লন্ডনের ডেপুটি মেয়র ফর ট্রান্সপোর্ট সেব ড্যান্স বলেন, “লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডজুড়ে ৪জি ও ৫জি সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ডিজিটাল যুগে লন্ডনবাসী ও দর্শনার্থীদের জন্য যাত্রাপথেও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নতুন সম্প্রসারণের আওতায় বেকারলু, মেট্রোপলিটন, সার্কেল ও ডিস্ট্রিক্ট লাইনের বিভিন্ন অংশে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। বেকারলু লাইনে কুইন্স পার্ক থেকে এজওয়্যার রোড পর্যন্ত টানেলের ভেতরেও এখন মোবাইল ব্যবহার করা যাচ্ছে। এছাড়া মেট্রোপলিটন লাইনের ইউস্টন স্কয়ার থেকে কিংস ক্রস সেন্ট প্যানক্রাস এবং বার্বিকান থেকে মুরগেট পর্যন্ত নতুন কভারেজ যুক্ত হয়েছে।
সার্কেল ও ডিস্ট্রিক্ট লাইনের ক্যানন স্ট্রিট থেকে মনুমেন্ট, স্লোন স্কয়ার থেকে ভিক্টোরিয়া এবং বেসওয়াটার থেকে প্যাডিংটন অংশেও যাত্রীরা এখন নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল সংযোগ পাচ্ছেন। ভক্সহল, টেম্পল, নাইন এলমস ও গ্লস্টার রোডের মতো ব্যস্ত স্টেশনেও নতুন সেবা চালু হয়েছে।
টিএফএল জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ নর্দার্ন, বেকারলু ও মেট্রোপলিটন লাইনের অধিকাংশ টানেল অংশে পূর্ণ মোবাইল কভারেজ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ডকল্যান্ডস লাইট রেলওয়ের ভূগর্ভস্থ অংশ এবং উইন্ডরাশ লাইনের হাইবুরি অ্যান্ড ইজলিংটন থেকে নিউ ক্রস পর্যন্ত অংশেও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাই উন্নত করবে না, বরং জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, ছবি পাঠানো এবং সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।
বোল্ডিন নেটওয়ার্কসের যুক্তরাজ্য শাখার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা নিক হাডসন বলেন, “পুরো লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে ৪জি ও ৫জি সেবা পৌঁছে দিয়ে লন্ডনকে বিশ্বের অন্যতম সংযুক্ত নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে লন্ডনের গণপরিবহন ব্যবস্থায় ডিজিটাল যোগাযোগের নতুন যুগের সূচনা হবে এবং প্রতিদিনের যাত্রা আরও স্মার্ট, সুবিধাজনক ও কার্যকর হয়ে উঠবে।
