হতাশার প্রথম ম্যাচের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি। জোড়া গোলের পাশাপাশি একাধিক রেকর্ড গড়ে পর্তুগালকে ৫-০ গোলের বড় জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই তারকা ফুটবলার।
হিউস্টনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। চতুর্থ মিনিটে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করলেও দুই মিনিট পরই ডান দিক থেকে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রসে প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন রোনালদো। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে ইউরোপের দলটি। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও নেভেস ও পেদ্রো নেতোর নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত থাকে উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগ। ১৯ মিনিটে নাসরুল্লায়েভের শট ঠেকিয়ে সম্ভাব্য সমতা ফেরানোর সুযোগ নষ্ট করেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।
এর কিছুক্ষণ পর একটি ফ্রি-কিক থেকে চমক দেখান নুনো মেন্দেস। সবাই যখন রোনালদোর শটের অপেক্ষায়, তখন বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।
২৯ মিনিটে আজিজজন গনিয়েভের শট জালে জড়ালেও ভিএআরের সহায়তায় গোল বাতিল করেন রেফারি। আক্রমণ গড়ার সময় ফাউলের প্রমাণ মেলায় গোলটি স্বীকৃতি পায়নি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে দ্বিতীয় গোল করেন রোনালদো। প্রথমার্ধ শেষ হয় পর্তুগালের ৩-০ ব্যবধানের লিডে।
ম্যাচ চলাকালেই আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়েন রোনালদো। বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। পাশাপাশি ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ১১টি ভিন্ন আসরে গোল করে ইউরোপীয় ফুটবলারদের মধ্যে সর্বকালের সেরা রেকর্ডও নিজের করে নেন।
বিরতির পর দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের হাতেই। ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও রোনালদোর শট দারুণভাবে রুখে দেন গোলরক্ষক নেমাতভ।
তবে ৬০ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি উজবেকিস্তানের। ব্রুনো ফার্নান্দেজের কর্নার থেকে রোনালদোর স্পর্শের পর বল খুসানোভের গায়ে লেগে গোলমুখে যায়। সেটি ঠেকাতে গিয়ে উল্টো নিজের জালেই বল পাঠিয়ে দেন নেমাতভ। আত্মঘাতী সেই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।
উজবেকিস্তান ৭৮ মিনিটে সান্ত্বনার গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও শোমুরোদভের শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষদিকে ৮৭ মিনিটে নেলসন সেমেদোর দারুণ ক্রস থেকে বদলি খেলোয়াড় রাফায়েল লেয়াও জালের ওপরের বাঁ কোণায় নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৫-০ করেন।
যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি রোনালদো। তবে তাতে ম্যাচের ফল কিংবা তার নৈপুণ্যের উজ্জ্বলতা ম্লান হয়নি। রেকর্ডগড়া জোড়া গোল এবং দাপুটে দলীয় পারফরম্যান্সে উদ্বোধনী ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে নকআউট পর্বের লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিল পর্তুগাল।
