যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রক্রিয়ার পর পাকিস্তান সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার পাকিস্তান পৌঁছাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার পর এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও সফরে অংশ নিচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এর ধারাবাহিকতায় ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পেজেশকিয়ানের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সফর উপলক্ষে ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদ পুলিশের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মধ্যরাত থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ভারী যানবাহনের রাজধানীতে প্রবেশ স্থগিত থাকবে। এছাড়া ম্যারিয়ট ও মার্গাল্লা রোড ছাড়া রেড জোনের অন্যান্য প্রবেশপথ সব ধরনের যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে পাকিস্তানের ক্যাবিনেট ডিভিশন রেড জোনে অবস্থিত অধিকাংশ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি অফিসকে মঙ্গলবার বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংসদসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে।

সফরকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পর এই সফর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও গতিশীল করবে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। ২০২৫ সালের আগস্টে তার প্রথম সফরে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত রোববার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাকিস্তান ও কাতারের সহায়তায় মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির রোডম্যাপে সম্মত হন।

এর আগে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে পাকিস্তান ও ইরানের সম্পর্কে সময় সময় জটিলতা দেখা দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় দেশ বাণিজ্য, আঞ্চলিক সংযোগ এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আরব নিউজ