সিলেট ওসমানীনগরে দুই বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ৯

সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহনের একটি বাস ও বেঙ্গল স্লিপার কোচের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শুক্রবার সকালে ব্যস্ত মহাসড়কে হঠাৎ বিকট শব্দে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায় দুটি বাস। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০) ও কুলিয়ারচরের সাফি মিয়ার পরিচয় পাওয়া গেছে।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান ঢাকা-বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের তিন বছর বয়সী মেয়ে জাইফা ইসলাম (৩) এবং সিলেট নগরের সোবহানিঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২)। সর্বশেষ আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ জনে।

আহত আরও কয়েকজন

দুর্ঘটনায় নুরুন নাহার (২৪), মো. মফিজ মিয়া (২৯), ফারুক মিয়া (২৯), মুক্তার (২৯), জাহাঙ্গীর (৩০), আফরুজা (২৯), আফজাল ও বাবুলসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উদ্ধার অভিযান

ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তাজপুর স্টেশনের স্টেশন অফিসার অপু মিয়া জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা বলেন, দুর্ঘটনার পর থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।