আইএসআই ইন্সপেকশনে ‘আউটস্টেন্ডিং’ স্বীকৃতি পেল লন্ডনের দারুল হাদিস লতিফিয়া

যুক্তরাজ্যের স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকারী সংস্থা Independent Schools Inspectorate (ISI)-এর সর্বশেষ ইন্সপেকশনে ‘Outstanding’ (আউটস্টেন্ডিং) স্বীকৃতি অর্জন করেছে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল হাদিস লতিফিয়া সেকেন্ডারি স্কুল। এ গৌরবময় অর্জন উপলক্ষে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের হলরুমে ‘Inspiring Excellence’ শীর্ষক শোকরানা মাহফিল ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অভিভাবক, গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ইমাম, খতিব, সাংবাদিক ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী অংশ নেন। অনুষ্ঠানের যৌথ সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের কো-হেডটিচার মুফতি মারুফ আহমদ ও হাফিজ মাওলানা আনহার আহমদ।

এতে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী, হেড মুহাদ্দিস মাওলানা নজরুল ইসলাম, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী, কমিউনিটি নেতা কে. এম. আবু তাহের চৌধুরী, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ক্যাবিনেট সদস্য ও কাউন্সিলর সাঈদ আহমদ, কাউন্সিলর ফয়সল আহমদ, অভিভাবকদের প্রতিনিধি ভিনসেন্ট মন্টি ও হাবিবুর রহমান হারুন। অনুষ্ঠানের সমাপনী দোয়া পরিচালনা করেন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আবদুল জলিল।

অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী বলেন, আইএসআই-এর এই স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার বাস্তব প্রতিফলন। তিনি বলেন, উচ্চমানের একাডেমিক শিক্ষা এবং পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষার সমন্বিত মডেলই এ সাফল্যের মূল ভিত্তি। তিনি এ অর্জনের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং শিক্ষক, গভর্নিং বডি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।


গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, এই স্বীকৃতি যেমন গৌরবের, তেমনি এটি আরও বড় দায়িত্বেরও প্রতীক। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি এমন প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করবে, যারা ঈমান, চরিত্র ও নেতৃত্বে অনুকরণীয় হবে এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আইএসআই তাদের প্রতিবেদনে বিদ্যালয়টিকে Outstanding হিসেবে মূল্যায়ন করে উল্লেখ করেছে, “All Relevant Standards Are Met”, অর্থাৎ প্রযোজ্য সব মানদণ্ড সফলভাবে পূরণ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিকে অভিনন্দন জানিয়ে Independent Schools Association (ISA) জানায়, এটি একটি অসাধারণ অর্জন। তাদের মতে, সম্ভবত এটিই প্রথম মুসলিম বিদ্যালয়, যা ‘Significant Strength’ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের দূরদর্শী শিক্ষাক্রম, ইসলামী শিক্ষা ও মূলধারার একাডেমিক পাঠ্যক্রমের কার্যকর সমন্বয়কে বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়েছে।

আইএসআই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও গভর্নরবৃন্দ একটি সুস্পষ্ট ও অভিন্ন শিক্ষাদর্শন অনুসরণ করছেন, যেখানে উচ্চমানের একাডেমিক উৎকর্ষের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষার সফল সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সমন্বিত পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয় বিশ্লেষণের সক্ষমতা তৈরি করছে এবং তারা পাবলিক পরীক্ষায় জাতীয় গড়ের চেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করছে।

প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, স্পষ্ট বক্তব্য উপস্থাপনের দক্ষতা এবং কুরআন তিলাওয়াত ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে যুক্তিনির্ভর আলোচনায় সক্ষমতারও প্রশংসা করা হয়।

এছাড়া বিদ্যালয়ের সেফগার্ডিং বা শিক্ষার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থাকে অত্যন্ত কার্যকর উল্লেখ করে আইএসআই জানায়, প্রতিষ্ঠানে একটি শক্তিশালী সুরক্ষা সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নেতৃত্ব সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এ অসাধারণ অর্জনের জন্য মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং শিক্ষক, অভিভাবক, দাতা, শিক্ষার্থী ও সমগ্র স্কুল কমিউনিটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দেশের ও প্রবাসের বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম, শিক্ষক, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং শুভানুধ্যায়ীরা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আইএসআই-এর এই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দারুল হাদিস লতিফিয়াকে শিক্ষার উৎকর্ষ, ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে।