কক্সবাজারের রামুতে শেখ হাসিনার ছবি ও সরকারবিরোধী স্লোগানসংবলিত ব্যানার নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউনের অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৭১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) রামু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ নূরুল আবছার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ জানতে পারে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রামুর জোয়ারিয়ানালার পূর্ব মুরাপাড়ার জমজম ফিলিং স্টেশনের সামনে মহাসড়কে মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিল করছেন।
পুলিশের অভিযোগ, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশে এবং রামু উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক ও এরশাদুল কাউসার সাকিবের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা শেখ হাসিনার ছবি ও ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা ব্যানার বহন করেন। একই সঙ্গে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মিছিলকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। এ সময় তারা একটি ব্যানার, ১৩টি কাঠের লাঠি এবং ১৯টি ইটের টুকরা ফেলে যান। পরে পুলিশ স্থানীয় তিনজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে এসব আলামত জব্দ করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাদ্দাম হোসেন, রামু উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক, এরশাদুল কাউসার সাকিবসহ মোট ৩১ জন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, উসকানি, অর্থায়ন ও আশ্রয় প্রদান এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিলেন।
এদিকে, এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রামু উপজেলা ছাত্রদল। একই সময়ে রামুতে বাইক শোডাউন এবং উখিয়ার পালংখালীতে ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে।
