ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন পেট্রোল স্টেশন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লাখ পাউন্ড মূল্যের জ্বালানি চুরি হচ্ছে বলে শিল্প খাতের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
জ্বালানি চুরি প্রতিরোধকারী প্রতিষ্ঠান ফোরকোর্ট আই (Forecourt Eye) জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গত পাঁচ মাসে পেট্রোল স্টেশন বা ফোরকোর্ট থেকে অর্থ পরিশোধ না করে জ্বালানি নেওয়ার ঘটনা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে অঞ্চলজুড়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের পাইকারি দাম বাড়ে এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের পাম্পগুলোতে জ্বালানির দামও বৃদ্ধি পায়।
ফোরকোর্ট আইয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের পাঁচ মাসের তুলনায় পরবর্তী পাঁচ মাসে চুরি হওয়া জ্বালানির আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ড মূল্যের জ্বালানি চুরি হচ্ছে বলে অনুমান করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, জ্বালানির উচ্চমূল্যে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের কাছ থেকে পেট্রোল স্টেশনগুলোতে অপমানজনক আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে।
এই বিশ্লেষণটি যুক্তরাজ্যের ৫৫০টি ফোরকোর্টের প্রতিনিধিত্বমূলক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে যুদ্ধ শুরুর আগের পাঁচ মাস এবং যুদ্ধ শুরুর পরের পাঁচ মাসের তথ্য তুলনা করা হয়। পরে ফলাফল দেশজুড়ে থাকা মোট ৮ হাজার ৩৫৯টি ফোরকোর্টের সম্ভাব্য পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হিসাব করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৮৭২টি জ্বালানি চুরির ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধের আগে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ৪০০।
এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে, জ্বালানি নেওয়ার পর কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধের চেষ্টা না করে গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়া এবং ট্যাংক ভরার পর অর্থ দেওয়ার কোনো উপায় নেই বলে দাবি করা।
এ সময় চুরি হওয়া জ্বালানির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন আনুমানিক ৮৭ হাজার লিটার জ্বালানি চুরি হলেও যুদ্ধ শুরুর পর তা বেড়ে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ৯০০ লিটারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফোরকোর্ট আই জানিয়েছে, তারা মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফেসওয়াচ (Facewatch)-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব করবে। এর আওতায় আগামী শরৎকাল থেকে দুই হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতাকে বিনামূল্যে অপরাধ রিপোর্টিং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
