পূর্ব লন্ডনে গুলিতে নিহত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ মাসুম আহমেদ

পূর্ব লন্ডনে গুলিতে নিহত হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মাসুম আহমেদ। তার মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও সিলেটের বিশ্বনাথের নিজ গ্রাম পূর্ব কারিকোনায়। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

সোমবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ব লন্ডনে মাসুম আহমেদকে গুলি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভোর প্রায় ৪টার দিকে পুলিশ তার পরিবারের লন্ডনের বাসায় গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে এবং স্বজনদের তার মৃত্যুর খবর জানায়।

নিহতের ছোট ভাই মারুফ আহমেদ জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা পরিবারের কাছে পরিচয় জানতে চান এবং মাসুমের একটি ছবি দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। এরপর কর্মকর্তারা জানান, গুলির আঘাতে মাসুমের মৃত্যু হয়েছে।

শৈশবেই যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো মাসুম আহমেদ সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে তার পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক ছিল গভীর। তার পৈতৃক বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পূর্ব কারিকোনায়। সেখানে তার বাবা আমির আলীসহ পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন।

মাসুম আহমেদ স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

মঙ্গলবার সকালে লন্ডন থেকে ফোনে স্বজনদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছালে তার নিজ এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। পরে স্থানীয় মসজিদগুলোতে বিষয়টি জানানো হলে প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে জড়ো হন।

এদিকে, মাসুমকে লক্ষ্য করে হামলার পেছনে কী কারণ ছিল বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মরদেহ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

পূর্ব লন্ডনে একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশির এমন মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নগর এলাকায় সহিংস অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও কমিউনিটি নেতাদের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠছে।