বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের ব্যয় সহায়তা বৃদ্ধির যুগান্তকারী ঘোষণা
কে এম আবু তাহের চৌধুরী | লন্ডন
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের ব্যয় সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ২টায় হোয়াইটচ্যাপেল রোডস্থ টাউন হলে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব ঘোষণা দেন।
মেয়র জানান, শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম গ্রান্ট এবং কাউন্সিল ট্যাক্স রিলিফ পাওয়ার ক্ষেত্রে পারিবারিক আয়ের সীমা ৫০ হাজার ৩৫০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার পাউন্ড করা হয়েছে।
এর আগে শুধু ইয়ার ওয়ান ও ইয়ার সেভেনের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম গ্রান্ট দেওয়া হতো। এ বছর থেকে আরও দুই শ্রেণি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইয়ার থ্রি ও ইয়ার টেনের শিক্ষার্থীরাও বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম গ্রান্টের আওতায় আসবে।

পারিবারিক আয়ের সীমা বাড়ানোর ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্কুল ইউনিফর্ম গ্রান্ট এবং শত শত পরিবার কাউন্সিল ট্যাক্স রিলিফ পাওয়ার সুযোগ পাবে বলে জানান মেয়র। এর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো কাউন্সিল ট্যাক্সের ২.৯৯ শতাংশ বৃদ্ধির চাপ সামলাতে সহায়তা পাবে। কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমের আওতায় যোগ্য অনেক পরিবার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কাউন্সিল ট্যাক্স মওকুফ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
মেয়র লুৎফুর রহমান আরও বলেন, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ লেভেল শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০০ পাউন্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের গ্রান্টও অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, শিগগিরই প্রেগন্যান্সি পেমেন্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য এক বছরের বিনামূল্যের ট্রাভেল পাস চালু করা হবে।
এ ছাড়া ফুড হাব তহবিল বা ফুড ব্যাংক কার্যক্রমে কাউন্সিলের সহযোগিতা বাড়িয়ে ৮ লাখ ৮৫ হাজার পাউন্ড করা হয়েছে বলে জানান মেয়র। ‘ইয়ং টাওয়ার হ্যামলেটস’ নামে পরিচিত কাউন্সিলের ইয়ুথ সার্ভিস ২০২৩ সালে পুনরায় কাউন্সিলের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আনার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩.৭ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ডেপুটি মেয়র মাইউম মিয়া তালুকদার বলেন, প্রতি বছর কাউন্সিল বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনকে ৬ মিলিয়ন পাউন্ড গ্রান্ট প্রদান করে। তিনি কমিউনিটি সংগঠনগুলোকে এ সুযোগের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বাসিন্দাদের ফস্টার কেয়ারার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্যও আহ্বান জানান। তিনি জানান, স্কুল ইউনিফর্ম গ্রান্টের জন্য আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, হাউজিং সমস্যা সমাধানে কাউন্সিল কাজ করে যাচ্ছে। গত চার বছরে ৬ হাজার ৪০০টি বাড়ি ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে আরও ৬ হাজার বাড়ি নির্মাণের জন্য সাইট নির্বাচন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
জনাকীর্ণ এই সাংবাদিক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ডেপুটি মেয়র মাইউম মিয়া তালুকদার, ফাইন্যান্স ও রিসোর্সের কেবিনেট মেম্বার আবু তালহা চৌধুরী, কাউন্সিল কর্মকর্তা অ্যামি জেকসন এবং কর্পোরেট ডিরেক্টর স্টিভ রেডি। এ সময় কাউন্সিলের সকল কেবিনেট মেম্বার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে মেয়র লুৎফুর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং ব্রিফিংয়ে ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগ ও সহায়তার বিষয়
