সিলেটে স্কলার্সহোমের শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’

সিলেট নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়া এলাকা থেকে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থীর নাম আজমান আহমদ (২০)। তিনি স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ শাখার দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ বলছে, বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আজমানের মরদেহ নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি তখনও কলেজ ড্রেস পরা অবস্থায় ছিলেন। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর স্থানীয় অনলাইন পত্রিকা বৈশাখী নিউজের।

আজমান চলতি বছরের একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। তখন কলেজ প্রশাসন জানায়, যারা প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় ভালো ফল করবে না, তাদের টিসি (স্থানান্তর সনদ) দিয়ে কলেজ থেকে বিদায় দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়, যেখানে আজমান ছয়টি বিষয়ে ফেল করেন। এরপর থেকেই অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা কলেজে গিয়ে বারবার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন যেন তাদের টিসি না দেওয়া হয়।

আজমান বুধবার টিসির বিষয়ে কথা বলতেই কলেজে যান। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। ফিরে এসে আজমান নিজের ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আজমানের এক সহপাঠী বলেন, “কলেজ কর্তৃপক্ষ একাধিক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়ার নিয়ম করেছে। আজমান এই সিদ্ধান্তে মানসিকভাবে চাপে ছিল। সে কলেজ ড্রেস পরেই আত্মহত্যা করেছে।”

আজমানের বোনও গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের ‘অমানবিক’ সিদ্ধান্তই আজমানকে চূড়ান্তভাবে ভেঙে দেয়।

খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, “সুবিদবাজার বনকলাপাড়ায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের পর জানানো হবে।”

স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম সিলেটটুডে২৪ জানিয়েছে, আজমানের মৃত্যু শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা নয়, বরং একটি অমানবিক ও নির্মম শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।