অনলাইন ডেস্ক | ৭ নভেম্বর ২০২৫
ইংল্যান্ডের কার্ডিফ শহরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক শুনানি শুরু হয়েছে। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর গাড়িটি খুঁজে পেতে পুলিশের লেগেছিল পুরো দুই দিন, যার ফলে আহতদের সময়মতো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনা ও উদ্ধার বিলম্ব
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ৪ মার্চ রাতে। নিখোঁজ হন পাঁচজন তরুণ-তরুণী — সোফি রাসন (২০), ইভ স্মিথ (২১), ডার্সি রস (২১), রাফেল জিন (২৪) এবং শেন লাফলিন (৩২)।তারা রাতে বাইরে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি। পুলিশের ধারণা ছিল, তারা দুর্ঘটনায় পড়েছেন। কিন্তু গাড়িটি খুঁজে পাওয়া যায় ৬ মার্চ, অর্থাৎ ৪৬ ঘণ্টা পর।
দুর্ঘটনাস্থল ছিল কার্ডিফের কাছে এ৪৮ সড়কের স্ট. মেলনস এলাকায়। সাদা রঙের ভক্সওয়াগেন টিগুয়ান গাড়িটি ঘন ঝোপঝাড়ে পড়ে ছিল এবং সহজে চোখে পড়েনি।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায় — ইভ স্মিথ, রাফেল জিন (চালক) ও ডার্সি রস মারা গেছেন। বাকি দুজন, সোফি রাসন ও শেন লাফলিন, গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হন।
অভিযোগ: পুলিশের অবহেলা ও উদাসীনতা
নিখোঁজ হওয়ার দিনই (৪ মার্চ সন্ধ্যায়) নিহত তিন তরুণীর পরিবার তাদের অনুপস্থিতির খবর জানায়। গোয়েন্ট পুলিশ প্রথম নিখোঁজ রিপোর্ট পায় রাত ৭টা ৩০ মিনিটে।পরবর্তী দুই দিন পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে একাধিকবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সাড়া মেলেনি। এক মায়ের অভিযোগ — তাকে পুলিশ ফোন করা বন্ধ করতে বলেছিল।অবশেষে, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের তৎপরতায় ৬ মার্চ রাত ১২টার পর গাড়িটি খুঁজে পাওয়া যায়।
তদন্তে জানা যায়, দুর্ঘটনার আগেই শেন লাফলিন একই গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং হাস্যগ্যাস (laughing gas) সেবন করেছিলেন। যদিও দুর্ঘটনার সময় তিনি চালকের আসনে ছিলেন না, তবে আগের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের দায়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ১ বছর ৫ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
নিহত ইভ স্মিথের মা এমা বর্গ বলেন, তদন্তের অপেক্ষা ছিল “দীর্ঘ ও মানসিকভাবে ক্লান্তিকর”।তিনি অভিযোগ করেন,“শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল, নিখোঁজ রিপোর্টগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়নি। বরং সেগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।”
তার মতে, পুলিশের এই ব্যর্থতা শুধু জনগণের আস্থা নষ্ট করেনি, বরং তার মেয়ে ইভের বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও কমিয়ে দিয়েছে।এমা বর্গ আরও বলেন,“আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে এমন সব প্রমাণ দিয়েছি, যা কোনো পরিবারের দেওয়া উচিত নয়। আমরা কোনো জবাব পাইনি, পাইনি ক্ষমা বা জবাবদিহি।” এই ঘটনায় ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বর্তমানে শাস্তিমূলক শুনানি (misconduct hearing) চলছে। আশা করা হচ্ছে, তদন্ত শেষে পুলিশ বাহিনীর ত্রুটি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
সূত্র : বিবিসি