স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা, ডাউনিং স্ট্রিট ‘বাঙ্কার মুডে’

লন্ডন প্রতিনিধি:

ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে ঘিরে। লেবার পার্টির অভ্যন্তরে চলমান আলোচনা ও গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে—শিগগিরই তাঁর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ উঠতে পারে। এমনকি কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, আগামী বাজেট ঘোষণার পরই এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দলের ভেতর থেকে আসা যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করবেন। তাঁদের মতে, এখন দলের ঐক্য অটুট রাখা ও সরকার পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

অন্যদিকে, স্যার কিয়ার স্টারমারের অনুগতরা মনে করছেন, তাঁর নেতৃত্বের ওপর সাময়িক চাপ সৃষ্টি করে কিছু গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বাজেট ঘোষণার পরপরই এই ষড়যন্ত্রের রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কিছু নীতি সিদ্ধান্ত ও সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাসের প্রেক্ষিতে কিছু সংসদ সদস্য ক্রমশ অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছেন। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন, বর্তমান নীতির ব্যর্থতা দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনে ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তবে স্যার কিয়ারের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বরং তাঁরা মনে করেন, এ ধরনের আলোচনা দলের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে এবং সরকারের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

সমালোচকেরা বলছেন, “ডাউনিং স্ট্রিট এখন সম্পূর্ণ বাঙ্কার মুডে চলে গেছে”—অর্থাৎ নীতিনির্ধারকেরা আত্মরক্ষার মোডে চলে গেছেন, যা “সরকারকে বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে না।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক যদি বাড়তে থাকে, তবে তা শুধু লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই নয়, বরং পুরো ব্রিটিশ রাজনীতিকেই প্রভাবিত করতে পারে। দলের ভেতরে বিভাজন দেখা দিলে সরকারের স্থিতিশীলতা এবং আসন্ন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

এদিকে, স্যার কিয়ারের এক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা বলেছেন, “এটি এমন সময় যখন দলকে একত্রে থাকতে হবে। ষড়যন্ত্র নয়, এখন দরকার দৃঢ় নেতৃত্ব ও সবার সহযোগিতা।”

রাজনৈতিক মহল বলছে, বাজেট ঘোষণার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে—তা-ই এখন সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।