যুক্তরাজ্যে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সারাদেশে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর মেট অফিস। রাতের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাবে এবং বিভিন্ন এলাকায় তুষারপাতের পাশাপাশি সড়কে বরফ জমে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মেট অফিস ইতোমধ্যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ডের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিম ওয়েলসের উপকূলীয় এলাকা এবং ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জন্য হলুদ আবহাওয়া সতর্কতা (Yellow Warning) জারি করেছে। এসব অঞ্চলে তুষারপাত ও ঘন কুয়াশার কারণে পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে এবং যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি, সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতির আশঙ্কায় নর্থ ইয়র্ক মুরস এবং ইয়র্কশায়ার ওল্ডসের কিছু অংশে অ্যাম্বার সতর্কতা কার্যকর করা হচ্ছে। মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব উঁচু এলাকায় ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার (৬–১০ ইঞ্চি) পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। এর ফলে স্কুল বন্ধ, রেলসেবা ব্যাহত হওয়া, সড়ক যোগাযোগ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার মতো পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাজ্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা— UKHSA—ইংল্যান্ডে শনিবার পর্যন্ত কোল্ড হেল্থ অ্যালার্ট জারি করেছে। সংস্থাটি বলছে, এই ঠাণ্ডা আবহাওয়া বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, হৃদরোগী, শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগী এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে। তারা নাগরিকদের ঘরে উষ্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বের হওয়া এবং প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান ঠাণ্ডা আবহাওয়া আগামী কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। জরুরি বিভাগ, স্থানীয় কাউন্সিল এবং পরিবহন দপ্তরগুলো ইতোমধ্যে সড়কে বরফ গলানোর লবণ ছড়ানোসহ নানা প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সূত্র বিবিসি