ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কমনওয়েলথ। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মহাসচিব শির্লে বোচওয়ে এই শোক জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে কমনওয়েলথের মহাসচিব বলেন, “শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আমি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের শোকের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
শির্লে বোচওয়ে বলেন, “আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।” এ সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বক্তব্যকে স্বাগত জানান, যেখানে সহিংসতায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং সবাইকে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও ঘৃণা বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংকটময় এই সময়ে শান্তি বজায় রাখা এবং সর্বোচ্চ ধৈর্য ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের আহ্বানেও তিনি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানীতে নির্বাচনি প্রচারণার সময় খুব কাছ থেকে গুলিবিদ্ধ হন শরীফ ওসমান বিন হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘ এক সপ্তাহ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়। হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে ন্যায়বিচারের দাবি উঠেছে।