নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
দিনব্যাপী আন্দোলন, ডিনদের চেম্বারে তালা ঝুলানো এবং রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আওয়ামীপন্থি ছয়জন ডিন পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে অনুষ্ঠিত এক সভায় তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষার্থী ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনার পর ডিনরা দায়িত্ব পালন করতে অপারগতার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষার্থী ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেখানে ডিনরা তাদের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে আগামীকাল উপাচার্য হয়তো একটি সিদ্ধান্ত জানাবেন।”
পদত্যাগ করা ছয়জন ডিন হলেন—আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাসিমা আখতার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এস এম কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এস এম একরাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সেলিম রেজা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিন জানান, উপাচার্য তাদের ডেকেছিলেন এবং তারা আগেও মৌখিকভাবে দায়িত্ব না দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা লিখিতভাবে দায়িত্ব পালনে অপারগতার কথা জানিয়েছি। তবে উপাচার্য স্যার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।”
এ বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম একরাম উল্লাহ বলেন, “আজ কী হয়েছে, সেটা জানি না। তবে আমরা জানিয়েছি যে আমরা দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নই।”
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এর আগে আওয়ামীপন্থি ছয় ডিনের পদত্যাগ দাবিতে রোববার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা ডিনস কমপ্লেক্সে জড়ো হন। পরে ডিনস কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত ওই ছয় ডিনের চেম্বারে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এদিন কোনো ডিনই নিজ নিজ বিভাগের ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার দপ্তরে গিয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন। এ সময় শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রার ভবন ত্যাগ না করার ঘোষণা দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার দপ্তরসহ উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর দপ্তরেও তালা ঝুলিয়ে দেন।
প্রায় আধা ঘণ্টা এসব দপ্তর তালাবদ্ধ থাকার পর তালা খুলে দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় রাতে আরেকটি সভা ডাকার ঘোষণা দিয়ে সভা সমাপ্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি, ডিন, সিন্ডিকেট, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি এবং শিক্ষা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১২টি অনুষদের মধ্যে আওয়ামীপন্থি হলুদ প্যানেল থেকে ছয়জন প্রার্থী ডিন হিসেবে নির্বাচিত হন। গত বুধবার এসব ডিনের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও ১১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তাদের স্ব-পদে বহাল থাকার নির্দেশ দেন উপাচার্য। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত ছয় ডিন দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন।