ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সব এয়ারলাইন চালুর দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা

কে এম আবু তাহের চৌধুরী: ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালু করা এবং সকল বিদেশি এয়ারলাইন পরিচালনার দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রবাসী ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। এ লক্ষ্যে গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৫টায় পূর্ব লন্ডনের গ্রেটারক্স স্ট্রিটের মাইক্রো বিজনেস পার্কে সর্বদলীয় কমিউনিটি নেতাদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘ক্যাম্পেইন কমিটি ফর ফুল্লি ফাংশনাল ওসমানী ইন্টারন্যাশনাল’-এর আহ্বানে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক কে এম আবু তাহের চৌধুরী এবং পরিচালনা করেন সদস্য সচিব এম এ রব। সভায় সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ মুনিম, সাবেক সিভিক মেয়র কাউন্সিলার ফারুক চৌধুরী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী অধিকার পরিষদের সভাপতি জামান আহমদ সিদ্দিকী, অর্থ সচিব সলিসিটর ও লেখক মোহাম্মদ ইয়াওর উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন চলমান থাকার পরও ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে না তোলা এবং বিদেশি ফ্লাইট চালু না করায় তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর সংগঠনের নেতারা দুই দফায় সরকারপ্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবি তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া সাংবাদিক সম্মেলন, হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক, সিলেটে বিশাল মানববন্ধন, উপদেষ্টাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে জনমত গঠনের সভা অনুষ্ঠিত হলেও প্রবাসীদের এই ন্যায্য দাবি গত ২৩ বছর ধরে উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ বিমানের আকাশচুম্বী ভাড়ার কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রবাসীদের দেশে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের এ আচরণ প্রবাসীদের সঙ্গে বৈষম্য ও উপহাসের শামিল বলে মন্তব্য করেন তারা।

দীর্ঘ আলোচনার পর সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবি আদায়ে বিশাল জনসভা, মানববন্ধন, বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাও, বিমান বয়কট এবং প্রয়োজনে রেমিট্যান্স বন্ধের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে সক্রিয় সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।

সভা থেকে আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে বিমানের ভাড়া হ্রাস, ওসমানী বিমানবন্দর থেকে বিদেশি ফ্লাইট চালুর অনুমতি প্রদান এবং টার্মিনাল ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বর্তমান সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানানো হয়।