যুক্তরাজ্যের নতুন ভ্যাট নীতির প্রভাব এড়াতে রাইড-হেইলিং কোম্পানি ইউবার চালকদের সঙ্গে তাদের চুক্তির কাঠামো পরিবর্তন করেছে। এর ফলে লন্ডনের বাইরে ইউবার আর পরিবহন সেবার সরাসরি সরবরাহকারী হিসেবে নয়, বরং এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে। এই পরিবর্তনের কারণে বেশিরভাগ যাত্রার ভাড়ার ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট আর প্রযোজ্য হবে না।
গত নভেম্বরের বাজেটে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস মিনিক্যাব খাতে ভ্যাট আরোপের নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা দেন, যা ‘ট্যাক্সি ট্যাক্স’ নামে পরিচিতি পায়। নতুন এই নীতির মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষেত্রে পুরো ভাড়ার ওপর ভ্যাট বসানোর সুযোগ তৈরি হয়। সরকারের দাবি ছিল, এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড কর রাজস্ব সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে।
তবে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ইউবারের নতুন শর্ত অনুযায়ী, লন্ডনের বাইরে চালকরাই সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন। এতে ভ্যাট আদায়ের দায় পড়বে চালকদের ওপর, আর ইউবার কেবল নিজের কমিশনের ওপর ভ্যাট পরিশোধ করবে। যেহেতু অধিকাংশ চালকের বার্ষিক আয় ৯০ হাজার পাউন্ডের নিচে, তাই তারা ভ্যাট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতায় পড়ছেন না।
এর ফলে লন্ডনের বাইরের এলাকায় ইউবার যাত্রার ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা কার্যত কমে গেছে। যাত্রীরা আগের মতোই ভাড়া পরিশোধ করবেন, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ২০ শতাংশ ভ্যাট যোগ হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ইউবারের এই পদক্ষেপ নতুন করনীতির প্রভাব অনেকটাই সীমিত করে দিয়েছে।
তবে লন্ডনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের বিধি অনুযায়ী সেখানে এজেন্সি মডেল অনুমোদিত নয়। ফলে রাজধানীতে ইউবার এখনও সরাসরি সেবাদাতা হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং যাত্রীদের ভাড়ার ওপর পূর্ণ ভ্যাট দিতে হবে।
বাজেট ঘোষণার পরপরই ইউবার এমন পদক্ষেপ নিতে পারে—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছিল। সে সময় ইউবারের যুক্তরাজ্য অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক অ্যান্ড্রু ব্রেম সতর্ক করে বলেন, নতুন নিয়ম লন্ডনে ভাড়া বাড়াবে এবং চালকদের কাজ কমিয়ে দেবে, যখন সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যেই জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে রয়েছে।
অন্যদিকে এইচএম ট্রেজারি জানিয়েছে, অনলাইন মিনিক্যাব কোম্পানিগুলোর জন্য থাকা একটি ‘বিশেষ কর সুবিধা’ বন্ধ করাই ছিল সরকারের লক্ষ্য। এতে একদিকে প্রচলিত ট্যাক্সিচালকদের জন্য করব্যবস্থা আরও ন্যায্য হবে, অন্যদিকে সরকারের অগ্রাধিকার খাতে ব্যয়ের জন্য রাজস্ব বাড়বে। তবে ইউবারের চুক্তি কাঠামো পরিবর্তনের পর বছরে ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য কতটা পূরণ হবে—সে বিষয়ে সরকার এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।