আহমাদুল কবির | মালয়েশিয়া:
আজকের দ্রুতগতির ডিজিটাল জীবনে জিনিস হারানো কিংবা অনলাইন প্রতারণার শিকার হওয়া নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ বা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার পর অধিকাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েই আশার আলো খোঁজেন, যা বেশিরভাগ সময়ই ফলপ্রসূ হয় না। একইভাবে, ভুয়া লিংক বা প্রতারণামূলক ফোনকলের তথ্য দেরিতে ছড়ানোর কারণে আরও অনেক মানুষ স্ক্যামের শিকার হন। এই বাস্তব সমস্যার কার্যকর ও টেকসই সমাধান দিতেই দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করেছে ‘অ্যাওয়ার এক্সওয়ান (Aware X One)’।
কমিউনিটি-চালিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য হলো—হারানো জিনিস খুঁজে পাওয়ার বাস্তব সুযোগ তৈরি করা এবং অনলাইন প্রতারণা ঘটার আগেই মানুষকে সতর্ক করা। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এই উদ্যোগের সূচনা। অ্যাওয়ার এক্সওয়ান-এর অন্যতম উদ্যোক্তা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মো. শাহরিয়ার শাহনাজ শোভন জানান, নিজের পাওয়ার ব্যাংক হারানোর অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন, জিনিস হারালে মানুষের জন্য কার্যকর কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা নেই। সেই ভাবনাই পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ সিস্টেমে রূপ নেয়।
শোভন অনলাইনে ‘shuvonsec’ নামে পরিচিত এবং নাসা, সনি, মেটা, অ্যামাজন ও গুগলের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে সাইবার দুর্বলতা শনাক্ত করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজায়া-তে তথ্যপ্রযুক্তিতে ডিপ্লোমা অধ্যয়নরত।
এই উদ্যোগের প্রযুক্তিগত ভিত্তি গড়ে তুলতে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উকাই কিং মারমা জয়। একজন অভিজ্ঞ সিস্টেমস ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জয় এমন একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ অবকাঠামো তৈরি করেছেন, যা বড় পরিসরে ব্যবহার হলেও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য থাকবে। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার—উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর দক্ষতা অ্যাওয়ার এক্সওয়ান-এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করেছে।
অ্যাওয়ার এক্সওয়ান-এর বিশেষত্ব হলো—একই প্ল্যাটফর্মে হারানো ও পাওয়া জিনিসের তথ্য এবং স্ক্যাম সতর্কতা প্রদান। ভুয়া তথ্য ও প্রতারণা ঠেকাতে এখানে রয়েছে ভেরিফায়েড আইডেন্টিটি সিস্টেম এবং ট্রাস্ট স্কোরিং ব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণে সহায়তা করে। পাশাপাশি, রিয়েল-টাইম লোকেশনভিত্তিক অ্যালার্টের মাধ্যমে কোনো এলাকায় স্ক্যাম বা হারানো জিনিসের তথ্য সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের ব্যবহারকারীদের জানিয়ে দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তারা জানান, অ্যাওয়ার এক্সওয়ান শুধু একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি একটি সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ। কমিউনিটির সদস্যরাই এখানে একে অপরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং সচেতনতার মাধ্যমে প্রতারণা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখেন।
ইতোমধ্যে উদ্যোগটির লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, ভবিষ্যতে অ্যাওয়ার এক্সওয়ান হারানো জিনিস উদ্ধার ও অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সেফটি নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে উঠবে।