ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) জানিয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশ দেন পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী।
মঙ্গলবার (আজ) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। এ মামলায় শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর শেখ ও বাপ্পীসহ পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
হত্যার কারণ সম্পর্কে ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও আওয়ামী-বিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণেই শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ভিডিওবার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিডিওবার্তা দিতেই পারে; তবে তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা শহীদ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। হাদি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।