ইরানে বিক্ষোভে রক্তপাত, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিয়েছে। শনিবার রাতেও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন অভিযানের মুখে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির জবাবে পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।

বিবিসির যাচাইকৃত ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে সরকার শক্তি প্রয়োগ বাড়িয়েছে। দুই দিনের মধ্যে অন্তত দুইটি হাসপাতালে শতাধিক মরদেহ আনার তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিক্ষোভের সূচনা হয় রাজধানী তেহরানে, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে। পরে তা রূপ নেয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসানের দাবিতে। সরকারের পক্ষ থেকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ‘ঈশ্বরের শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে, যা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। খামেনি নিজে বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়েছে। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও নৌ চলাচল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান স্বাধীনতার পথে এগোচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। প্রমাণ ছাড়াই তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি শক্তি প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের দিয়ে সহিংসতা ছড়াচ্ছে এবং ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে।

বিবিসি পার্সিয়ান ও বিবিসি ভেরিফাইয়ের যাচাইকৃত ফুটেজে দেখা গেছে, তেহরান, কেরমানশাহ ও বুশেহরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইলামেও হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি ছোড়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহত ও নিহতদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রাশত শহরের একটি হাসপাতালে এক রাতেই ৭০টি মরদেহ আনার তথ্য নিশ্চিত করেছে বিবিসি পার্সিয়ান। তেহরানের একটি হাসপাতালে প্রায় ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছেন এক স্বাস্থ্যকর্মী।

ইরানের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, বিক্ষোভ দমনে অভিযানের মাত্রা বাড়ানো হয়েছে এবং তথাকথিত ‘মূল উসকানিদাতাদের’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

ইন্টারনেট শাটডাউন ও বিদেশি গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে বিক্ষোভ যত তীব্র হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যাও তত বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।