আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ গাম্বিয়ার

অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরু হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে সোমবার এই ঐতিহাসিক শুনানি শুরু হয়।

শুনানির শুরুতেই গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাউদা জালো বলেন, মিয়ানমার পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। তার ভাষায়, গণহত্যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার লক্ষ্যেই দেশটির সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। জালো বলেন, গাম্বিয়া একটি দুর্বল ও নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে নৃশংস মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছে। তিনি জানান, কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গারা নির্যাতন, বৈষম্য ও অমানবিক প্রচারণার শিকার হয়ে আসছে, যার পরিণতিতে সামরিক অভিযান ও গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামরিক সরকারের অধীনে থাকা দেশের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই গাম্বিয়া দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এই মামলা দায়ের করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মামলা করে। এতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিচার প্রক্রিয়া টানা তিন সপ্তাহ চলবে। এ সময় গাম্বিয়ার উত্থাপিত অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে মিয়ানমার, যা মাসের শেষ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

আদালত রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন সাক্ষীর বক্তব্য শোনার জন্য তিন দিন নির্ধারণ করেছে। তবে এসব অধিবেশন জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের জন্য বন্ধ থাকবে। যদিও আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত ব্যক্তিগতভাবে কাউকে গণহত্যার মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে না, তবুও আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।