বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ ও দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কিছু প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান উদ্বৃত্ত দুধ “ফেলে দিতে” বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের দুগ্ধ খামারিরা। তাদের মতে, এটি শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, ভয়াবহ অপচয়।
অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড হর্টিকালচার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (এএইচডিবি) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে দুধ উৎপাদন ৫.৪ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বাজারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হয়ে উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল ফারমার্স ইউনিয়নের কাম্ব্রিয়া কাউন্টি চেয়ারম্যান জন লংমায়ার বলেন, বর্তমান দুধের দাম “টেকসই নয়” এবং উদ্বৃত্ত দুধ ফেলে দেওয়া “চরম হতাশাজনক ও অপ্রত্যাশিত”। তিনি বলেন, “এটা হওয়া উচিত নয়।”
বিবিসি রেডিও কাম্ব্রিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লংমায়ার বলেন, প্রক্রিয়াজাতকারীরা খামারিদের আশ্বাস দিচ্ছেন যে ফেলে দেওয়া দুধের দাম পরিশোধ করা হবে। তবে খামারিদের অবস্থান স্পষ্ট। তার ভাষায়, “আমরা দুধ উৎপাদন করি নালায় ফেলতে বা স্লারি ট্যাংকে ঢালার জন্য নয়।” তিনি জানান, গত সাত থেকে আট মাস ধরেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছিল। অক্টোবরের দিকে এসে অনেক প্রক্রিয়াজাতকারী বুঝতে পারেন, বাজারে আসা বিপুল পরিমাণ দুধ সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা তাদের নেই।
লংমায়ার আরও বলেন, নিউজিল্যান্ডে উদ্বৃত্ত দুধ ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত প্রক্রিয়াজাত সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু যুক্তরাজ্যে তা নেই। তার মতে, দেশে দুধকে গুঁড়া দুধে রূপান্তরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এতে উদ্বৃত্ত দুধ সংরক্ষণ করা যাবে এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন কমে গেলে সেই মজুত কাজে আসবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই সংকটের সমাধান না হয়, তাহলে অনেক দুগ্ধ খামার বন্ধ হয়ে যাবে। আর একসময় দুধের ঘাটতি দেখা দিলে তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। এদিকে পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দপ্তর ডেফরা উদ্বৃত্ত দুধ নিয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, সরকার “পরিশ্রমী দুগ্ধ খামারিদের পাশে রয়েছে” এবং ন্যায্য সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়।