টাওয়ার হ্যামলেটসে অসামাজিক আচরণ দমন ও আবাসন সংকটে নতুন কৌশল ঘোষণা

লন্ডন প্রতিনিধি: টাওয়ার হ্যামলেটস: অসামাজিক আচরণ (এএসবি) দমন এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাপ মোকাবেলায় দুটি বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে স্থানীয় কাউন্সিল। সাম্প্রতিক বাসিন্দা জরিপে উঠে আসা শীর্ষ উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

আইল অব ডগস-এর জুট হাউসে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান, ডেপুটি মেয়র মাইয়ুম তালুকদার, কাউন্সিল কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, নতুন হাউজিং কৌশলের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি বাড়ানো, বিদ্যমান বাড়ির মান ও নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং বাসিন্দাদের জন্য বসবাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, এই পরিকল্পনা স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে।

অসামাজিক আচরণ দমনে কঠোর নীতি

নতুন এএসবি নীতিতে জনউপদ্রব, শব্দদূষণ, মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ এবং যানবাহনজনিত বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কাউন্সিল ইতোমধ্যে ২৪/৭ লাইভ ইনসিডেন্ট ফোনলাইন চালু করেছে, যাতে বাসিন্দারা দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারেন। পাশাপাশি ৮০ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগে অ্যান্টি-ক্রাইম টাস্কফোর্স গঠন, সিসিটিভি উন্নয়ন এবং পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট টিমের যৌথ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কেবিনেট মেম্বার আবু তালহা চৌধুরী বলেন, “অসামাজিক আচরণের কোনো স্থান এখানে নেই। আমরা নিরাপদ ও সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

২০২৬–২০৩৬ হাউজিং কৌশল

নতুন হাউজিং কৌশলে ‘আরও বাড়ি, ভালো বাড়ি, নিরাপদ বাড়ি’ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩০ হাজারের বেশি পরিবার হাউজিং রেজিস্টারে রয়েছে, যা সমস্যার গভীরতা নির্দেশ করে।

কাউন্সিলের পরিকল্পনায় রয়েছে:

  • ৩,৩৩২টি নতুন বাড়ি নির্মাণ
  • বিদ্যমান বাড়ি উন্নয়নে ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ
  • গৃহহীনতা প্রতিরোধ
  • ব্যক্তিগত ভাড়া খাতের উন্নয়ন
  • ওভারক্রাউডিং সমস্যা সমাধান

কেবিনেট মেম্বার কবির আহমেদ বলেন, এই কৌশল এলাকার বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর আবাসন চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

বাসিন্দাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। নতুন বাসিন্দা মিসেস বেগম বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার পর তিনি নতুন বাড়ি পেয়ে সন্তুষ্ট। তার ভাষায়, “এটি অপেক্ষার মূল্য ছিল।”

কাউন্সিলের মতে, এই নতুন নীতি ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসকে আরও নিরাপদ, বাসযোগ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক এলাকায় পরিণত করা সম্ভব হবে।