বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত হতে চায় মালয়েশিয়া

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া:

মালয়েশিয়া বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উপাদান উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালেদ নোরদিন জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া এখন আর শুধু মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়, বরং স্বীকৃত উপাদান নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়।

তিনি বলেন, সফটওয়্যার উন্নয়ন, সমন্বিত সার্কিট এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি উপাদান তৈরিতে দেশের উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। মেলাকাভিত্তিক কম্পোজিটস টেকনোলজি রিসার্চ মালয়েশিয়া ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক বিমানযন্ত্রাংশ সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত হয়ে এই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

এছাড়া, দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গুলি, উড়োজাহাজ ও স্থলযানের জন্য ফ্লেয়ার সিস্টেম উৎপাদনেও সক্ষমতা অর্জন করেছে। এমনকি দেশীয়ভাবে ১০৫ মিলিমিটার আর্টিলারি গান তৈরির প্রস্তাবও এসেছে, যা প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতার ইঙ্গিত বহন করে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ডিফেন্স সার্ভিসেস এশিয়া ২০২৬ এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এশিয়া ২০২৬ বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ে এখন থেকে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ স্থানীয় উপাদান ব্যবহারের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় উদ্ভাবক ও নির্মাতাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এদিকে, একই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোকে মালয়েশিয়ার নির্মাতাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উচ্চমূল্য সংযোজনকারী বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে মালয়েশিয়ার অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে।

অন্যদিকে, চারদিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। রোববার (১৯ এপ্রিল) তিনি কুয়ালালামপুরে পৌঁছান।

আইএসপিআর জানায়, সেনাপ্রধান সোমবার প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ডিফেন্স সার্ভিসেস এশিয়া (ডিএসএ)’ ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি এশিয়া (এনএটিএসইসি এশিয়া) ২০২৬ এক্সিবিশন’ পরিদর্শন করেন।

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এ প্রদর্শনীতে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদর্শিত হচ্ছে।

সফরের ধারাবাহিকতায় তিনি আগামীকাল ৮ম পুত্রাজায়া ফোরামে অংশ নেবেন। সেখানে আসিয়ান অঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং উদীয়মান প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।