যুক্তরাজ্যে ‘ঘোস্ট এমওটি’ নামে নতুন ধরনের প্রতারণা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গাড়ি পরীক্ষা না করেই অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে এমওটি পাসের সনদ, যার ফলে ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ চালকরা।
বিশেষ করে সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ি কেনার পর অনেকেই বুঝতে পারছেন, তাদের গাড়িতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে—যেমন স্টিয়ারিং সমস্যা, ক্ষয়প্রাপ্ত টায়ার বা ত্রুটিপূর্ণ লাইট—যা কখনোই পরীক্ষায় পাশ করার মতো ছিল না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রতারণায় কিছু অসাধু গ্যারেজ বা মেকানিক পরীক্ষা ছাড়াই সিস্টেমে গাড়িকে ‘পাস’ হিসেবে দেখিয়ে দেন। অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি গ্যারেজে না নিয়েই এমন সনদ দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
যুক্তরাজ্যে তিন বছরের বেশি পুরনো গাড়ির জন্য MOT test বাধ্যতামূলক। সাধারণত এই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু কোনো গ্যারেজ যদি অস্বাভাবিকভাবে অল্প সময়ের মধ্যে এমওটি শেষ করে দেয়, সেটি বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হতে পারে।
এছাড়া অস্বাভাবিক কম খরচের অফারও প্রতারণার ইঙ্গিত দেয়। বর্তমানে এমওটির সর্বোচ্চ নির্ধারিত ফি ৫৪ দশমিক ৮৫ পাউন্ড—এর চেয়ে অনেক কমে অফার পেলে সতর্ক থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গাড়ি কেনার আগে অবশ্যই এমওটি ইতিহাস যাচাই করতে হবে। যদি দেখা যায় গাড়ি কেনার দিনই সনদ দেওয়া হয়েছে, অথবা পুরনো গাড়ির ইতিহাসে কোনো সতর্কতামূলক মন্তব্য (advisory) নেই, তাহলে বিষয়টি সন্দেহজনক হতে পারে।
এ ধরনের ভুয়া সনদের কারণে শুধু অতিরিক্ত মেরামত খরচই নয়, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বীমা দাবি বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়—যা আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্যারেজের বিরুদ্ধে Driver and Vehicle Standards Agency (DVSA)–এর কাছে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। সংস্থাটি ইতোমধ্যে পরীক্ষার সময় গাড়ির ছবি আপলোড বাধ্যতামূলক করার মতো নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে এই ধরনের প্রতারণা কমানো যায়।
