পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বাংলাদেশ ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে নতুন আলোচনা

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর থেকেই রাজ্যের শীর্ষ পদে তাকে সবচেয়ে সম্ভাব্য মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিধায়কের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্য দিয়েই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উঠে আসেন। বিরোধী রাজনীতিতে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি বহুবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর দেশটি নিয়ে তার একাধিক বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিকে সামনে এনে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর পেট্রাপোল সীমান্তের এক সমাবেশে শুভেন্দু বলেন, নির্যাতন বন্ধ না হলে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কথাও উল্লেখ করেন।

পরবর্তী সময়ে ৮ ও ৯ ডিসেম্বরের জনসভা ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং কিছু গোষ্ঠীকে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেন। ১০ ডিসেম্বর ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ‘বৈধ প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

২০২৫ সালের শুরুতেও তার বক্তব্যের ধার আরও তীব্র হয়। ১২ জানুয়ারি তিনি দাবি করেন, ভারত চাইলে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমেই বাংলাদেশকে দ্রুত মোকাবিলা করতে সক্ষম। পরে ১৯ জানুয়ারি বারাসাতের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সংঘাত হলে সেটি ‘কয়েক মিনিটেই’ শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশে দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুভেন্দু আরও কঠোর অবস্থান নেন। ২২ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

এর মাত্র কয়েক দিন পর, ২৭ ডিসেম্বর, এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইসরায়েল যেমন গাজায় শিক্ষা দিয়েছে, সেভাবে বাংলাদেশকেও শিক্ষা দেওয়া উচিত।” তার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারীর অতীতের এসব বক্তব্য এখন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার রাজনৈতিক অবস্থান ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।