হরমুজ প্রণালী ঘিরে ফের উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানে’ অভিযুক্ত করল ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “বেপরোয়া সামরিক অভিযান” চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, যখনই কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়, তখনই ওয়াশিংটন সামরিক পথ বেছে নিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ইরান কখনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কি “চাপ সৃষ্টির কৌশল”, নাকি কেউ আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে নতুন সংঘাতে জড়িয়ে দিচ্ছে।

এদিকে, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার পথ খুলতেই এই যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio জানিয়েছেন, শুক্রবার ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দিতে পারে। ইতালি সফরকালে তিনি বলেন, “আমি আশা করি এটি একটি গুরুত্বের সঙ্গে দেওয়া প্রস্তাব হবে।”

হরমুজ প্রণালী ঘিরে পরিস্থিতি এখনো অস্থির। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান সেখানে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গালফ অব ওমান এলাকায় ইরানের পতাকাবাহী দুটি খালি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজ দুটি চলমান অবরোধ ভঙ্গ করে ইরানের বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করছিল।

সেন্টকম আরও জানায়, নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজগুলোর ধোঁয়া নির্গমন অংশে আঘাত করা হয়েছে, যাতে তারা বন্দরে প্রবেশ করতে না পারে। বর্তমানে ৭০টিরও বেশি ট্যাঙ্কারের চলাচল ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও আরেকটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলার কথাও জানানো হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের এক কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর জানান, মিনাব উপকূলের কাছে হামলার শিকার একটি কার্গো জাহাজে আগুন ধরে যায়। আহত ১০ নাবিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলছে।

এদিকে ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক ছোট নৌকা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজ যেমন তাদের প্রতিহত করেছি, ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে, যদি তারা দ্রুত চুক্তিতে না আসে।”