প্রথিতযশা সাংবাদিক মানিক মিয়ার ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণার অন্যতম পুরুষ, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক Tafazzal Hossain Manik Miah-এর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ১ জুন।

১৯৬৯ সালের এই দিনে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থানকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল।

১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি Brojomohun College থেকে ১৯৩৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে পিরোজপুর মহকুমা হাকিমের আদালতে সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তীতে সাংবাদিকতাকেই নিজের জীবনসংগ্রামের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন।

১৯৪৭ সালে Huseyn Shaheed Suhrawardy-এর উদ্যোগে কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেন তিনি। দেশভাগের পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেলে ঢাকায় এসে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক-এর সঙ্গে যুক্ত হন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক রূপ নেয় দৈনিক ইত্তেফাক-এ, যা পরবর্তীতে বাঙালির রাজনৈতিক চেতনা ও অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখপত্রে পরিণত হয়।

মানিক মিয়ার সম্পাদনায় দৈনিক ইত্তেফাক তৎকালীন সামরিক শাসক Ayub Khan-এর শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কারণে তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়। ১৯৫৯ সালে সামরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি কারাগারে যান। পরে ১৯৬৬ সালেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবংমুখে সরকার শেষ পর্যন্ত ইত্তেফাকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় এবং ১৯৬৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পত্রিকাটি পুনরায় প্রকাশিত হয়।

তার বিখ্যাত রাজনৈতিক কলাম—‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’, ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ এবং ‘রঙ্গমঞ্চ’—তৎকালীন বাঙালি সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এসব লেখার মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরেন এবং বাঙালির আত্মপরিচয়, অধিকার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক ইতিহাসে মানিক মিয়া শুধু একজন সম্পাদক নন, তিনি ছিলেন জনমত গঠনের এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। সত্যের পক্ষে আপসহীন অবস্থান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।