ইংল্যান্ডে অংশগ্রহণকারী বাস সেবাগুলোর একক যাত্রার সর্বোচ্চ ভাড়া আগামী জানুয়ারি থেকে আবার £২ নির্ধারণ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ কমাতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বাস ভাড়া ক্যাপ পুনর্বহালে £৫০০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যয় হবে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় কমাবে এবং জীবনযাত্রার খরচ সামাল দিতে কিছুটা স্বস্তি দেবে।
এর আগে, ২০২৫ সালের শুরুতে তৎকালীন লেবার সরকার, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে, ইংল্যান্ডজুড়ে বাস ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা £৩ নির্ধারণ করেছিল। তবে লিভারপুল ও ম্যানচেস্টারে ভাড়া £২-ই রাখা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, সাশ্রয়ী গণপরিবহন একটি অপরিহার্য সেবা। তাঁর ভাষায়, “কম ভাড়া মানুষের কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় গন্তব্যে পৌঁছানোকে আরও সহজ করবে।”
পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন ভাড়া ক্যাপ সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি ও আশার বার্তা দেবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এটি ব্যয় সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান নয়।
নতুন ভাড়া ক্যাপ আগামী জানুয়ারি থেকে লন্ডনের বাইরে অংশগ্রহণকারী বাস সেবাগুলোতে কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, লন্ডনে বর্তমানে একটি সাধারণ একক বাস যাত্রার ভাড়া £১.৭৫।
সরকারের মতে, এই উদ্যোগে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকার যাত্রীরা, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে একক বাস ভাড়া তুলনামূলক বেশি।
অন্যদিকে, ক্যাম্পেইন ফর বেটার ট্রান্সপোর্ট জানিয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় এখনো বাস রুট ও সেবার ঘাটতি রয়ে গেছে। সংগঠনটির প্রতিনিধি মাইকেল সলোমন উইলিয়ামস বলেন, শুধু ভাড়া কমানো নয়, গত কয়েক বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাস রুটগুলোও পুনরায় চালু করা জরুরি।
কাউন্টি কাউন্সিলস নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকায় বাস সেবা (ভেহিকল মাইল হিসেবে) প্রায় ১৮ শতাংশ কমে গেছে, যা ওই অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
