প্রথম বাজেটের প্রস্তুতির মধ্যেই জুলাই মাসে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে সরকারের ব্যয় ও কর আদায়ের মধ্যকার ঘাটতি দাঁড়িয়েছে £1.8 বিলিয়ন।
যুক্তরাজ্যের Office for National Statistics (ONS) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি ঋণের পরিমাণ পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে। সরকারি পূর্বাভাসে জুলাইয়ে £500 মিলিয়ন উদ্বৃত্ত থাকার আশা করা হয়েছিল। সেই হিসাবে বাস্তব ঋণ পূর্বাভাসের চেয়ে £2.3 বিলিয়ন বেশি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পরিসংখ্যান চ্যান্সেলর জন হিলি এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম-এর জন্য বাজেটে অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ আরও সীমিত করতে পারে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে পরিবারগুলোর জন্য নতুন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে, অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ খুব বেশি থাকবে না।
আগামী ২৭ অক্টোবর বাজেট ঘোষণা হওয়ার কথা। এর আগে হিলি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি বাজেটে “শক্তিশালী আর্থিক শৃঙ্খলা” বজায় রাখবেন। এর অর্থ হলো, সরকারের হাতে নতুন ব্যয় পরিকল্পনার জন্য আর্থিক পরিসর সীমিত থাকতে পারে।
হিলি তার পূর্বসূরি র্যাচেল রিভসের নির্ধারিত আর্থিক নীতিমালাও বহাল রেখেছেন। এই নীতির অধীনে দশকের শেষ নাগাদ সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় পুরোপুরি কর রাজস্বের মাধ্যমে মেটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুলাইয়ের ঋণের পরিসংখ্যান প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে হিলি বলেন, সরকার “অন্য যেকোনো G7 অর্থনীতির তুলনায় দ্রুত ঘাটতি কমাচ্ছে”। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের মধ্যে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া এবং তরুণদের কর্মসংস্থানে সহায়তা দেওয়ার ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে জুলাইয়ের এই প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল আর্থিক ফলাফল আগামী বাজেটে সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সূত্র বিবিসি
