যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। টানা ১৩ রাত ধরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে এগোতে পারে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন সেতু, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং সুপেয় পানি শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বেসামরিক অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সংঘাত আরও জোরালো করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই অবস্থানের পর ইরানের পক্ষ থেকেও বৃহৎ পরিসরে পাল্টা হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চল একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কি নতুন একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে? পাশাপাশি, কয়েক দশক ধরে চলা দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতা বর্তমান সংকটকে কীভাবে আরও জটিল করে তুলছে, সেটিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
চলতি সপ্তাহে আল-জাজিরার বিশেষ অনুষ্ঠান ‘আপফ্রন্ট’-এ এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বস্টন কলেজের সমাজবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক আলি কাদিভার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মার্ক ল্যামন্ট হিল। আলোচনায় বর্তমান সংকটের সম্ভাব্য পরিণতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস বিশ্লেষণ করা হয়।
তবে উল্লেখ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির স্বাধীন যাচাই সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি। ফলে সংঘাত-সংক্রান্ত তথ্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
