আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে বাজেট ঘোষণার ঠিক আগে চ্যান্সেলর রাচেল রিভস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে “প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত” নেবেন, যা কর বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না।
ডাউনিং স্ট্রিটে এক বাজেট-পূর্ব ভাষণে রিভস বলেন, “বিশ্ব আমাদের পথে আরও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে,” এবং সেই বাস্তবতায় তিনি বাজেটে জনস্বার্থে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।
লেবার পার্টির সাধারণ নির্বাচন ইশতেহারে আয়কর, ভ্যাট ও ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও, সেই অবস্থান বদলানোর সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি রিভস। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি উত্তর দেন, “আমি বাজেটের জন্য প্রেক্ষাপট তৈরি করছি।”
অপরদিকে শ্যাডো চ্যান্সেলর স্যার মেল স্ট্রাইড বলেন, “এই জরুরি ভাষণটি প্রমাণ করল যে কর বৃদ্ধি আসছে। যদি তিনি প্রতিশ্রুতি ভেঙে আবার কর বাড়ান, তবে তাঁকে সরতে হবে।”
রিভস আরও বলেন, এই বাজেট হবে “বৃদ্ধি ও ন্যায্যতার উপর ভিত্তি করে”, যার লক্ষ্য হবে:
- এনএইচএসের রোগীর দীর্ঘ অপেক্ষা কমানো
- জাতীয় ঋণ হ্রাস
- জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “পরিবারগুলোকে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার থেকে রক্ষা করতে যা প্রয়োজন, তা করব। আমাদের জনসেবাগুলোকে আবার কৃচ্ছ্রসাধনে ফেরত যেতে দেব না।”
চ্যান্সেলর আরও যোগ করেন, “এই প্রচেষ্টায় আমাদের সবার অবদান রাখতে হবে। দেশের নিরাপত্তা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রত্যেকের দায়িত্ব রয়েছে।”
প্রেস ব্রিফিং থেকে ধারণা মিলেছে, এ বছর বাজেটে কর বৃদ্ধি অনিবার্য। তবে কোন কর বাড়বে, তা নিয়ে রিভস স্পষ্ট করেননি।
তিনি ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে দুর্বল উৎপাদনশীলতা, ব্রেক্সিট, দীর্ঘমেয়াদি কৃচ্ছ্রসাধন, অবকাঠামো খাতে কাটছাঁট এবং বিশ্বব্যাপী উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি—এই সব কারণেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তাও এর একটি অংশ।
রিভসের অবস্থান হলো: আগের সরকারের ব্যর্থতার বোঝা বর্তমান সরকারের কাঁধে এসে পড়েছে এবং তা মোকাবিলা করাই তাঁর দায়িত্ব।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের ট্রেজারি মুখপাত্র ডেইজি কুপার বলেন, “এটা স্পষ্ট, বাজেট হবে গিলতে কষ্টকর এক তিক্ত ওষুধ, কারণ সরকারের আর অজুহাত দেওয়ার জায়গা নেই।”
সূত্র: বিবিসি