স্টাফ রিপোর্টার: গণভোট অধ্যাদেশ–২০২৫ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তার আগে সকাল ১১টায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই বৈঠক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে বিকেল ৪টায় সংবাদ ব্রিফিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভোট আইন অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা কাঠামোগত সংস্কারগুলোর বিষয়ে সরাসরি জনগণের মতামত জানতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরিতে এই অধ্যাদেশ অনুমোদনের পথ প্রশস্ত হলো।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তুতি চলছে। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—এ দুটি আয়োজনের কারণে প্রয়োজন হতে পারে কিছু কেন্দ্রে বুথ সংখ্যা বাড়ানোর। ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা একটি বড় ধরনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ।
দুটি ভোটের জন্য আলাদা ব্যালটপত্র ব্যবহার করা হবে এবং নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাই গণভোট পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা। সাধারণত জাতীয় নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। তবে এবার ভোটারদের দুটি ব্যালট প্রদান ও বুথে বাড়তি চাপ সামলাতে ভোট শুরুর সময় আরও আগিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন।
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৯টি বুথ নির্ধারণ করেছে ইসি। প্রতি ৩ হাজার ভোটারের জন্য একটি কেন্দ্র এবং প্রতি ৫০০ পুরুষ ও ৪০০ নারী ভোটারের জন্য পৃথক বুথ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।