উপজেলা প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর–শান্তিগঞ্জ) আসনে ৮ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতা জোটের প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর বারবার দলবদল করা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শাহীনূর পাশাকে ঘিরেই এখন আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে তিন দশক সক্রিয় থাকার পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়ে সমালোচিত ডামি নির্বাচনে অংশ নেন শাহীনূর পাশা। পরে তিনি খেলাফত মজলিসে যোগ দেন এবং বর্তমানে ‘রিকশা’ প্রতীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে জোটের মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালাচ্ছেন।
তবে একই আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়াসীন খান। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থেকে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। পাশাপাশি খেলাফত মজলিসের যুক্তরাজ্য শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক শেখ মুশতাক আহমেদও একজন আলোচিত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
শাহীনূর পাশার বিরুদ্ধে বারবার দলবদল, ডামি নির্বাচনে অংশগ্রহণ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতা এবং ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তৎকালীন ধর্মমন্ত্রীর বাসভবনে ‘শান্তি ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ জোটের ভেতরেই প্রশ্ন তুলেছে। এসব কারণে জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাকে নিয়ে ছাড় দিতে নারাজ।
এ বিষয়ে শাহীনূর পাশা দাবি করেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয় বরং রাজনৈতিক কৌশল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন এবং তার ভোটব্যাংক শক্তিশালী।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়াসীন খান বলেন, ডামি নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ও বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দিলে জোটের ভরাডুবি অনিবার্য। তিনি মাঠের বাস্তবতা ও ক্লিন ইমেজ বিবেচনায় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান।
খেলাফত মজলিসের নেতা শেখ মুশতাক আহমেদও বলেন, উলামা-মাশায়েখ অধ্যুষিত এ আসনে বিতর্কিত প্রার্থী দিলে জোট নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৃণমূল নেতারাও বলছেন, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা বা দলীয় কোটা নয়, বিজয়ের সম্ভাবনাই হওয়া উচিত চূড়ান্ত বিবেচ্য।
সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জোটের প্রার্থী নির্বাচন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লিন ইমেজ না বিতর্কিত পরিচয়—এই দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তির দিকেই এখন তাকিয়ে আছে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহল।