জগন্নাথপুরে “পঁচিশের স্বাবলম্বী” কর্মসূচি সম্পন্ন: ১১ গ্রামে ১৫০টি ছাগল বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় মানবিক সহায়তা ও স্বাবলম্বিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি “পঁচিশের স্বাবলম্বী” বাস্তবায়ন করেছে সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে। তিন ধাপে উপজেলার সৈয়দপুর–শাহারপাড়া ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে সর্বমোট ১৫০টি ছাগল বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মসূচির প্রথম ধাপে শাহজালাল উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এবং দ্বিতীয় ধাপে সোনাতনপুর জনতা বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০০টি ছাগল বিতরণ করা হয়। সর্বশেষ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াগাঁও মাদ্রাসা মাঠে তৃতীয় ধাপে আরও ৫০টি ছাগল বিতরণের মধ্য দিয়ে সমাপনী আয়োজন সম্পন্ন হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র প্রেসিডেনশিয়াল মেম্বার, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী শেখ ফারুক আহমদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাবেক ছাত্রনেতা জিয়াউল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।


বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাহারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আব্দুর রব, কারি মাওলানা আব্দুল তাহিদ, সমাজসেবক মাওলানা আব্দুস সালাম, ফয়জুল হক, সমাজকর্মী শাহিন তালুকদার, মাওলানা ইয়াহিয়া প্রমুখ। এ সময় এলাকার প্রবীণ মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুনু মিয়া, গফফার মিয়া, বারিক মিয়া, বাবুল আহমদ বাবু, এলাইছ মিয়া, কমলা মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন রুয়েল, কাওছার আহমদ, আছকির মিয়া, আনহার মিয়া, রাসেল আহমদ, কাওছন মিয়া, তাহমিদ আহমদ, রাহিম আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বক্তারা বলেন, “পঁচিশের স্বাবলম্বী” কেবল একটি দানমূলক কর্মসূচি নয়; এটি দরিদ্র পরিবারগুলোর আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। হতদরিদ্র পরিবারের হাতে উৎপাদনশীল সম্পদ তুলে দিয়ে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই আয়ের পথ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ভবিষ্যতেও এমন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নগদ অর্থ সহায়তা, ত্রাণ বিতরণ এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, স্বাবলম্বিতা সৃষ্টির এই উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারের জীবিকা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র এই ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।