সিলেট, | রবিবার ২৮ শে ডিসেম্বর ২০২৫.
ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিনের বলিষ্ঠ ও নিষ্ঠাবান ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী শেখ ফারুক আহমেদ -কে প্রদান করা হয়েছে ‘প্রবাসী সম্মাননা–২০২৫’।
সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সিলেট সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এক বিশেষ ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল নাসের খান। সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা গ্রহণের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ ফারুক আহমেদ প্রবাসীদের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা, অধিকার ও ন্যায্য দাবিদাওয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন, “প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।” তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের সংযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেখ ফারুক আহমেদ যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একটি সুপরিচিত ও অত্যন্ত সম্মানিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবকল্যাণমূলক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সমস্যা, অধিকার ও ন্যায্য দাবিদাওয়া আদায়ে তিনি সবসময় সোচ্চার ও কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছেন।

তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল মেম্বার সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি পলাশ সেবা ট্রাস্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দুর্যোগকালীন সহায়তা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমে তাঁর অবদান প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদানও উল্লেখযোগ্য। তিনি বৃহত্তর সিলেট এডুকেশন ট্রাস্ট, জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্ট (ইউকে)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে শিক্ষা সহায়তা ও বৃত্তিমূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি হাউস অব গিভিং ফাউন্ডেশন ইউকে-এর ট্রাস্টি ও আজীবন সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তার মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইস্ট লন্ডনের বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহাম কাউন্সিল থেকে সম্মানজনক সিভিক অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস (তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সম্মান লাভ করেন, যা তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সিলেট বিভাগের ঐতিহ্যবাহী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ৭নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের আউদত গ্রাম-এর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শেখ ফারুক আহমেদ । তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। পারিবারিক ইতিহাসে জানা যায়, তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন প্রখ্যাত ইসলামি প্রচারক হযরত মুহাম্মদ সালেহ (রহ.), যিনি ১৭শ শতকে বান্ন্যাশং এলাকার মিয়াখানি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। এই ধর্মীয় ও মানবিক উত্তরাধিকারই তাঁর চিন্তা-চেতনা ও কর্মজীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

সিলেটের ঐতিহ্য ও প্রবাসী সম্মাননার তাৎপর্য
ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্বে সমৃদ্ধ সিলেট অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সপ্তম শতকে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং সিলেটকে ‘শিলি চটলো’ নামে উল্লেখ করেন এবং পরবর্তীতে আল-বেরুনী তাঁর গ্রন্থ কিতাবুল হিন্দ-এ একে ‘শিলা হাট’ নামে অভিহিত করেন। এই ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলে প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রবাসী সম্মাননা প্রদান একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার, সাহিত্যচর্চা ও প্রবাসী কমিউনিটির সার্বিক কল্যাণে শেখ ফারুক আহমেদ -এর বহুমুখী ও দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রবাসী সম্মাননা–২০২৫’ প্রদানকে সংশ্লিষ্ট মহল গৌরবজনক ও সম্পূর্ণভাবে প্রাপ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন।
নিষ্ঠা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধকে মূল শক্তি হিসেবে ধারণ করে শেখ ফারুক আহমেদ আজ দেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর জীবন ও কর্মপ্রবাহ প্রমাণ করে—ভৌগোলিক সীমারেখা কখনোই মানবকল্যাণ ও সমাজসেবার পথে বাধা হতে পারে না। একজন মানুষের জীবনই যে সমাজের উন্নয়ন, মানবিক চেতনা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে—শেখ ফারুক আহমেদ তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।