লন্ডনের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। শনিবারের এই বিক্ষোভে এক ব্যক্তি দূতাবাসের ব্যালকনিতে উঠে ইরানের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলেন, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজনের বিরুদ্ধে জরুরি সেবাকর্মীর ওপর হামলা ও গুরুতর অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে, অন্যজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গুরুতর অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে। এছাড়া আরেকজনকে অনধিকার প্রবেশের ঘটনায় খোঁজা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এবং বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। বিক্ষোভ চললেও দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অনেককে ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভির ছবি বহন করতে দেখা যায়। ইরানের ভেতর চলমান আন্দোলনের মধ্যেই অনেক বিক্ষোভকারী তার প্রত্যাবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২৮ ডিসেম্বর ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান এবং কোথাও কোথাও রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘অশান্তি সৃষ্টিকারী’ বলে অভিহিত করেছেন এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন। বর্তমানে দেশটিতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর রয়েছে। বিদেশি গণমাধ্যমের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় ইরানের পরিস্থিতি জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।