অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ, তবে তা যেন কখনো বিভেদের পর্যায়ে না যায়। আলোচনা ও সমালোচনা হতে হবে, কিন্তু সেটি বিরোধ সৃষ্টি করার জন্য নয়, বরং সমাধানের পথে এগোনোর জন্য। শনিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার প্রথম দিনের কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে দেশের জাতীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক, শীর্ষ নির্বাহী এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের সমস্যা ছিল, এখনো আছে। তবে কোনোভাবেই ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রশ্ন নেই। ওই দিনের ঘটনা রাজনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। হিংসা ও প্রতিহিংসার পরিণতি কী হয়, তা দেশ দেখেছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার মাধ্যমেই দেশের সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর নির্যাতনের রক্তমাখা ছবি আজও তার চোখের সামনে ভাসে। জেল-জুলুমের শিকার রুহুল আমিন গাজীর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনা একত্র করলে দেশের বাস্তবতা স্পষ্ট হয়।
আগামী নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে বিএনপির একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, “মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’, আমি বলেছি ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’।”পরিকল্পনার বড় একটি অংশ নারীদের ঘিরে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। পাঁচ থেকে সাত বছরের জন্য একজন গৃহিণী এই কার্ড পাবেন, যাতে রাষ্ট্রীয় সহায়তার মাধ্যমে তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এক পরিবার থেকে একটি কার্ড দেওয়া হবে।
পানি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগামী ১০–১৫ বছরের মধ্যে ঢাকায় ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিতে পারে। বুড়িগঙ্গা পুরোপুরি দূষিত, শীতলক্ষ্যা অর্ধেকের বেশি দূষিত। দীর্ঘমেয়াদে পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনই সংসদ ও বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তরুণদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী নেতৃত্বের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা চায়। ১৯৭১, ১৯৯০, ২০০৪ এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে রাজনীতি করলে দেশ সঠিক পথে এগোবে।
স্বাস্থ্য খাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে তিনি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান, যাদের ৮০–৮৫ শতাংশ হবেন নারী। ভোকেশনাল শিক্ষা আধুনিকীকরণ, বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো, রপ্তানিমুখী শিল্পে বন্ড সুবিধা, আইটি পার্ক কার্যকর করা এবং পেপালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় সব পর্যায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মীকে আঘাত করতে চাই না। আসুন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অধিকার, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করি।”সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে গঠনমূলক ও সমাধানমুখী সমালোচনা প্রত্যাশা করবেন। শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়, দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়ক আলোচনা চান তিনি।মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকরাও বক্তব্য দেন। তারা গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতা, সুশাসন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংকটসহ নানা বিষয়ে প্রত্যাশা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।