অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি হারে বেড়েছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ONS) জানিয়েছে, ওই মাসে জিডিপি ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল মাত্র ০.১ শতাংশ।
এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি ছিল শিল্প উৎপাদনের বৃদ্ধি। বিশেষ করে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (JLR)–এর কারখানাগুলোতে উৎপাদন ফের শুরু হওয়ায় মোটরগাড়ি উৎপাদনে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়। সাইবার হামলার কারণে সেপ্টেম্বরজুড়ে JLR–এর যুক্তরাজ্যজুড়ে উৎপাদন বন্ধ ছিল। অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে উৎপাদন শুরু হয় এবং নভেম্বরে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে পড়ে। ওই মাসে মোটরগাড়ি উৎপাদন বেড়েছে ২৫.৫ শতাংশ।
নভেম্বরের ২৬ তারিখের বাজেটকে সামনে রেখে পরিষেবা খাতেও কিছুটা গতি আসে। হিসাবরক্ষণ ও কর পরামর্শ–সংক্রান্ত কার্যক্রম বেড়েছে বলে জানিয়েছে ONS। তবে একই সময়ে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাজেটের ফলাফল না জানা পর্যন্ত বিনিয়োগ বা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত ছিল।
তিন মাসের গড় হিসাবে অর্থনৈতিক চিত্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে অর্থনীতি বেড়েছে মাত্র ০.১ শতাংশ। ONS জানিয়েছে, মাসভিত্তিক জিডিপি পরিসংখ্যান সাধারণত বেশি অস্থির হলেও তিন মাসের তথ্য প্রকৃত প্রবণতা ভালোভাবে তুলে ধরে।

কেপিএমজি ইউকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়ায়েল সেলফিন বলেন, বাজেটকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে। তিনি জানান, ভোক্তা আস্থা দুর্বল থাকলেও গৃহস্থালি ব্যয়ে ধীরে ধীরে উন্নতির আভাস মিলছে। তার মতে, অনিশ্চয়তা কমে যাওয়ায় আগামী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকতে পারে।
ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের অর্থনীতি পরিচালক সুরেন থিরু বলেন, নভেম্বরে পাওয়া এই “অপ্রত্যাশিতভাবে ইতিবাচক” তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অধিকাংশ খাতই বাজেট-পূর্ব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠেছে। তার ধারণা, ডিসেম্বরেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে অর্থনীতি সামান্য হলেও বাড়বে, যদিও ‘সুপার ফ্লু’ শিক্ষা খাতসহ কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে নির্মাণ খাত নভেম্বরে পিছিয়ে পড়েছে। এ খাতে উৎপাদন কমেছে ১.৩ শতাংশ এবং তিন মাসের হিসাবে প্রায় তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ রুথ গ্রেগরি মনে করেন, অস্বাভাবিকভাবে ভেজা আবহাওয়ার কারণেই এই পতন হয়েছে এবং ডিসেম্বরেই খাতটি ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
তবে গ্রেগরি সতর্ক করে বলেন, পরিষেবা খাতের সাম্প্রতিক বৃদ্ধি মূলত আগের কয়েক মাসের বড় পতন পুষিয়ে নেওয়ার মতোই, অর্থনীতি যে মৌলিকভাবে আগের ধারণার চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে এমন নয়।
ডয়চে ব্যাংকের প্রধান যুক্তরাজ্য অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় রাজা বলেন, এই তথ্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ফেব্রুয়ারিতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তার মতে, অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে স্থিতিশীল হওয়ায় দ্রুত হারে সুদ কমানোর চাপ এখন কম।
সূত্র বিবিসি