ডিজিটাল আইডি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল যুক্তরাজ্য সরকার

অনলাইন ডেস্ক: প্রস্তাবিত ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে সরে এসেছে যুক্তরাজ্য সরকার। এর ফলে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের জন্য ডিজিটাল আইডি আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। কাজ করার আইনগত অধিকার প্রমাণে কর্মীরা ডিজিটাল আইডির পাশাপাশি অন্যান্য পরিচয়পত্রও ব্যবহার করতে পারবেন।

গত সেপ্টেম্বর ঘোষিত পরিকল্পনায় ডিজিটাল আইডিকে স্বেচ্ছাসেবী বলা হলেও কাজের অধিকার যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সেটিই একমাত্র বাধ্যতামূলক উপাদান ছিল। সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ায় সরকার কার্যত পরিকল্পনার সবচেয়ে বিতর্কিত অংশে পরিবর্তন আনল। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা একে নীতিগত ইউ-টার্ন হিসেবে মানতে নারাজ।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিগগির শুরু হতে যাওয়া পূর্ণাঙ্গ জনপরামর্শের আগে ব্যবস্থাটি আরও বাস্তবসম্মত করতেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসা কর ও কৃষকদের উত্তরাধিকার কর ইস্যুর পর এটি সরকারের আরেকটি নীতিগত পিছু হটার উদাহরণ।

২০২৯ সালের মধ্যে ডিজিটাল আইডি চালুর ঘোষণা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, অবৈধভাবে কাজ করা ঠেকাতে এটি হবে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। তাঁর দাবি ছিল, ডিজিটাল আইডি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অবৈধ কর্মসংস্থান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশোধিত পরিকল্পনায় নাগরিকদের পরিচয় এখনো ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করতে হবে। তবে এর জন্য নতুন কোনো আলাদা ডিজিটাল আইডি বাধ্যতামূলক নয়। পাসপোর্ট বা বিদ্যমান ই-ভিসার মতো নথি ব্যবহার করেই ডিজিটাল যাচাই করা যাবে বলে জানিয়েছে সরকার।

সরকারি সূত্র জানায়, এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো যারা ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করতে চান তাদের সে সুযোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে কার্যত বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র চালুর বিতর্ক এড়ানো। এতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কা ও সমালোচনাও কমবে বলে সরকারের ধারণা।

সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, কাজের অধিকার যাচাইয়ে ডিজিটাল পদ্ধতি বাধ্যতামূলক রাখার প্রতিশ্রুতি বহাল থাকবে। তবে ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে আসন্ন জনপরামর্শ শেষে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ সরকারি সেবাকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করবে, একই সঙ্গে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক থাকবে।

তবে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি এই সিদ্ধান্তকে সরকারের আরেকটি লজ্জাজনক ইউ-টার্ন বলে আখ্যা দিয়েছে। শ্যাডো ক্যাবিনেট অফিস মন্ত্রী মাইক উড বলেন, অবৈধ কাজ ঠেকানোর নামে যে কঠোর নীতির কথা বলা হয়েছিল, তা এখন ব্যাকবেঞ্চ চাপের মুখে ভেঙে পড়ছে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকেও সমালোচনা এসেছে। দলটির ক্যাবিনেট অফিসবিষয়ক মুখপাত্র লিসা স্মার্ট বলেন, শুরু থেকেই এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল এবং এতে করদাতাদের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, ডিজিটাল আইডি প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ এনএইচএস ও সামনের সারির পুলিশিং খাতে ব্যয় করা উচিত।

সরকারি এক সূত্র জানায়, সংশোধিত পরিকল্পনা মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণই থাকবে। নতুন ব্যবস্থায় কাগজপত্রের পরিবর্তে ডিজিটাল যাচাই আরও জোরদার করা হবে, যাতে নিয়োগকর্তারা পাসপোর্ট বা ই-ভিসার মাধ্যমে কর্মীর কাজের যোগ্যতা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে যাচাই করতে পারেন।