গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনমার্কের। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্কসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত সব বা যেকোনো পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডকে “সম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে” যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্রয়ের বিষয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে।
এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান কোনো তৃতীয় পক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনমার্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগেই ডেনিশ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গঠনমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে শুল্কের হুমকি বিস্ময়কর।
ডেনমার্কের এক সংসদ সদস্য এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এবার যথেষ্ট হয়েছে।” একই সঙ্গে ইউরোপীয় কাউন্সিল ও ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতিরা সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের শুল্ক আরোপ ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক নিম্নমুখী ধারায় ঠেলে দিতে পারে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। কৌশলগত অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে ইউরোপীয় নেতাদের মতে, চাপ ও শুল্ক হুমকির মাধ্যমে কোনো সার্বভৌম অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ গ্রহণযোগ্য নয়।
সূত্র: বিবিসি
