ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম: নন-ইউকে পাসপোর্টে ব্রিটেনে ঢুকতে পারবেন না দ্বৈত নাগরিকরা

অনলাইন ডেস্ক: আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিক ব্রিটিশদের জন্য নতুন ও কঠোর নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। নতুন এই বিধান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট না থাকলে কোনো দ্বৈত নাগরিক ব্রিটিশ নন-ইউকে পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না। নতুন নিয়মের আওতায় বিদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে ঢোকার সময় অবশ্যই বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট (Certificate of Entitlement) প্রদর্শন করতে হবে। এসব নথি দেখাতে ব্যর্থ হলে সীমান্তে প্রবেশে বাধা বা দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়তে হতে পারে।

এর আগে দ্বৈত নাগরিকরা ব্রিটিশ নয় এমন পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করতে পারতেন এবং প্রয়োজনে নাগরিকত্ব সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখিয়ে প্রবেশের সুযোগ পেতেন। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুযোগ বাতিল হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের যেকোনো দেশে বসবাসরত সব ব্রিটিশ ও আইরিশ দ্বৈত নাগরিকের ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে বহু দ্বৈত নাগরিককে নতুন করে ব্রিটিশ পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাজ্য থেকে আবেদন করলে পাসপোর্টের খরচ প্রায় ৯৪ পাউন্ড ৫০ পেনি, আর বিদেশ থেকে আবেদন করলে ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট ব্যবহার করা গেলেও, এর খরচ প্রায় ৫৮৯ পাউন্ড, যা অনেকের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। হোম অফিস জানিয়েছে, এই নতুন নীতির লক্ষ্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, ডিজিটাল ও কার্যকর করা। হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারির পর কোনো দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিক যদি বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট দেখাতে না পারেন, তাহলে তাকে সীমান্তে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত হোম অফিসের নতুন ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) কর্মসূচির অংশ। ভবিষ্যতে যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে ভ্রমণে ভিসা লাগে না, তাদেরও আগাম অনুমোদন নিতে হবে। যদিও ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকরা ইটিএ থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন, তবুও তাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বহনের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। হাউস অব কমন্সের এক ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, আইনের দৃষ্টিতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ব্রিটিশ পাসপোর্টে ভ্রমণ বাধ্যতামূলক না হলেও বাস্তবে পরিবহন সংস্থাগুলোর আগাম যাচাই ব্যবস্থার কারণে পাসপোর্ট ছাড়া যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যথাযথ নথি ছাড়া যাত্রী পরিবহন করলে জরিমানার ঝুঁকি থাকায় এয়ারলাইন ও অন্যান্য পরিবহন সংস্থাগুলো হোম অফিসের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করছে।

ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা নাগরিকত্ব গ্রহণের সনদ পরিবহন সংস্থার যাচাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে এসব নথি দিয়ে আর যুক্তরাজ্যে প্রবেশ সম্ভব হবে না।নতুন এই নীতি কার্যকর হলে বিদেশে বসবাসকারী লাখো দ্বৈত নাগরিক ব্রিটিশের জন্য যুক্তরাজ্যে যাতায়াত আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট