নিউজ রিপোর্ট:
গ্রিনল্যান্ড দখল সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিকে “ভুল” বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট।
এটি ছিল ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক হুমকির পর দুই নেতার প্রথম ফোনালাপ। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রির বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
হোয়াইট হাউস জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার দাবি জোরালো করছে। এতে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এবং গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফোনালাপের পর ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানান, স্যার কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পকে বলেছেন যে, “উচ্চ উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর সব মিত্রের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ইউরো-আটলান্টিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক চাপানো ঠিক নয়।
মুখপাত্র আরও জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার আগে স্টারমার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে আলাপ করেন।
ডেনমার্ক সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না এবং দেশটির ভূখণ্ডে হামলা হলে তা ন্যাটো সামরিক জোটের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার চেয়ে ডেনমার্কের সঙ্গেই থাকতে আগ্রহী।
এদিকে ট্রাম্পের শুল্ক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত আটটি দেশ রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থা ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে দুর্বল করবে এবং পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিতে পারে। ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের জনগণ এবং ডেনমার্কের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সূত্র বিবিসি
