ইইউর অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন, একবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলেই বন্ধ সেকেন্ড অ্যাসাইলাম আবেদন

নিউজ রিপোর্ট: ব্রাসেলস, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ লিডারস সামিট অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম–এ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন আপডেটকৃত ডাবলিন রেগুলেশন অনুযায়ী, ইউরোপের কোনো দেশে একবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক তথ্য দিলে অন্য কোনো ইইউ সদস্য রাষ্ট্রে গিয়ে নতুন করে অ্যাসাইলাম আবেদন করার সুযোগ আর থাকবে না।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি দ্বিতীয় কোনো ইইউ দেশে আটক হন এবং তার বায়োমেট্রিক তথ্য আগে থেকেই ইইউ সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকে, তাহলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রথম যে দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া হয়েছিল সেই দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই আপডেটের আওতায় পুরো ইউরোপজুড়ে একটি সেন্ট্রাল ডিজিটাল বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ চালু করা হবে। কোনো দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই তথ্য রিয়েল-টাইমে অন্যান্য ইইউ সদস্য রাষ্ট্র, সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ এবং ইউরোপীয় বিভিন্ন এজেন্সির কাছে দৃশ্যমান হবে। ফলে আগের মতো তথ্য গোপন করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

ইইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে এই নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপজুড়ে একটি ইউনিফর্ম অ্যাসাইলাম সিস্টেম চালু হবে, যেখানে প্রতিটি দেশের দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে।

ইইউর ভাষ্য অনুযায়ী, এই আপডেটের মূল লক্ষ্য হলো অনিয়মিত অভিবাসন কমানো, এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবৈধভাবে যাওয়ার প্রবণতা বা সেকেন্ডারি মুভমেন্ট বন্ধ করা এবং অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করা।

এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা ইতালি হয়ে ফ্রান্স, জার্মানি বা অন্য কোনো ইইউ দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর বৈধ ভিসা বা লিগ্যাল রুট ছাড়া সীমান্ত পার হওয়া আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন থেকে ইউরোপে অবস্থান করতে হলে অবশ্যই বৈধ স্ট্যাটাস, সঠিক ডকুমেন্টেশন এবং অনুমোদিত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হবে। অন্যথায়, প্রথম ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া দেশেই ফেরত পাঠানো প্রায় নিশ্চিত।