আহমাদুল কবির | মালয়েশিয়া:
সেলাঙ্গরের সুলতান শরাফুদ্দিন ইদ্রিস শাহ রাজ্যের সব মসজিদ ও সুরাউকে রাজনীতিমুক্ত রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার করা যাবে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেন।
সরকারি সংবাদ সংস্হা বারনামার খবরে বলা হয়, সুলতান শরাফুদ্দিন বলেন, মসজিদ ও সুরাউয়ের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত ইবাদত, দাওয়াহ কার্যক্রম এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য জোরদার করা—বিভেদ, বিদ্বেষ কিংবা ঘৃণা ছড়ানো নয়।
ক্লাংয়ের ইস্তানা আলম শাহে ৮৫০ জন নাজির ও ইমামের মাঝে নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমি কোনোভাবেই সহ্য করব না এমন রাজনীতিকদের, যারা ধর্মীয় বয়ানের আড়ালে মসজিদ ও সুরাউকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার বানাতে চায়।
সুলতান আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে নাজির ও ইমামদের কোনো রাজনৈতিক পদে থাকা বা দলীয় রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়। কারণ, এসব দায়িত্ব পবিত্র আমানত, যার জবাবদিহি আল্লাহর কাছে করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, মসজিদ পরিচালনার পদ নিয়ে কোন্দল ও দ্বন্দ্ব মুসলমানদের মধ্যে অসন্তোষ, শত্রুতা ও বিভাজন সৃষ্টি করবে।
ক্ষমতা ও পদের লোভে মালয় জনগোষ্ঠী বিভক্ত হোক—আমি তা চাই না। এর শেষ পরিণতি মালয় সমাজের জন্য ক্ষতিকরই হবে।
মসজিদ ও সুরাউয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে সুলতান শরাফুদ্দিন বলেন, তহবিল ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং সেলাঙ্গর ইসলামিক ধর্ম বিভাগ (জেএআইএস) ও সেলাঙ্গর ইসলামিক ধর্মীয় পরিষদ (এমএআইএস)-এর বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সুশাসন নিশ্চিত ও জনগণের আস্থা ধরে রাখতে প্রতি চার মাস অন্তর আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন তিনি।
সুলতান বলেন,মসজিদ ও সুরাউয়ের তহবিল জনগণের দান থেকে আসে, যা মুসলমানদের আমানত। কোনো ধরনের অর্থ আত্মসাৎ আমি বরদাশত করব না। ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী এসব অর্থ উম্মাহর কল্যাণেই ব্যবহার করতে হবে।
ইসলামের ভাবমূর্তি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সুলতান শরাফুদ্দিন বলেন, অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনায় ইসলাম যেন আর কলঙ্কিত না হয়।
মালয় মুসলমানদের জড়িত এমন অনিয়মের ঘটনায় কেউ কেউ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে—এ ধরনের ঘটনা ইসলামের পবিত্রতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা আর চলতে দেওয়া যাবে না।
