নিউজ রিপোর্ট: ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতির আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে “সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে”। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, একটি “বিশাল নৌবহর” ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা প্রয়োজনে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তিনি ইরানকে অবিলম্বে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য একটাই, ইরানের হাতে যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে।
এর জবাবে জাতিসংঘে ইরানের মিশন জানায়, তেহরান পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সংলাপে প্রস্তুত। তবে হুমকি বা চাপ প্রয়োগ করা হলে দেশটি আত্মরক্ষায় “অভূতপূর্ব জবাব” দেবে বলেও সতর্ক করে ইরান।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তারা বারবার অস্বীকার করেছে।
এদিকে বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জর্ডান, কাতার এবং ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও কার্গো বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। ওমানের কাছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি নৌবহরও মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও তাদের উপকূলের কাছে শাহিদ বাঘেরি নামের একটি ড্রোনবাহী জাহাজ মোতায়েন করেছে বলে স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক শক্তি প্রদর্শন কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হলেও, এতে উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সামরিক হুমকির মাধ্যমে কূটনীতি কার্যকর হতে পারে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যদিও উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বলছে।
