চীনের সঙ্গে ব্রিটেনের নীরব টানাপোড়েন: বাণিজ্যিক লাভ বনাম নিরাপত্তা উদ্বেগ

নিউজ রিপোর্ট: চীনের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ককে বলা যায় নীরব কিন্তু স্থায়ী এক টানাপোড়েন। একদিকে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য থেকে আসা বিপুল লাভ। অন্যদিকে রয়েছে বেইজিংয়ের গুপ্তচরবৃত্তি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মেধাস্বত্ব চুরির মতো গভীর উদ্বেগ।

এই দুই বাস্তবতার ভারসাম্য রক্ষা করার কোনও নিখুঁত সমাধান এখনো খুঁজে পায়নি ব্রিটেনের কোনও সরকার। ইউরোপ যখন ধীরে ধীরে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে, তখন চীন এতটাই বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বাজার যে তাকে উপেক্ষা করা কার্যত অসম্ভব।

তবে একই সঙ্গে চীনই এখন ব্রিটেনের গোপন গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-এর প্রধান অগ্রাধিকার। রাশিয়ার চেয়েও বেশি সময় ও সম্পদ চীনের ওপর ব্যয় করছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এর পেছনে রয়েছে একাধিক সুস্পষ্ট কারণ।

চীনের কর্মকাণ্ডের যে দিকগুলো সবার চোখে পড়ে, সেগুলোর মধ্যে আছে হংকংয়ে গণতন্ত্র দমন, জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের ওপর নিপীড়ন এবং দক্ষিণ চীন সাগরে প্রবাল দ্বীপ দখল ও সামরিকীকরণ।

এর পাশাপাশি রয়েছে আরও কিছু কম দৃশ্যমান কিন্তু সমানভাবে উদ্বেগজনক বিষয়। এর মধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের ফোন হ্যাক করার অভিযোগ, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত চীনা গণতন্ত্রপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং সবচেয়ে বড় করে বলতে গেলে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহের প্রতি বেইজিংয়ের তীব্র আগ্রহ।

এই তথ্যের বড় অংশই বর্তমানে এনক্রিপ্ট করা। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য ডিক্রিপ্ট করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে ব্রিটেনের সামনে চ্যালেঞ্জ একটাই। কীভাবে অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও মূল্যবোধকে ঝুঁকিতে না ফেলা যায়। এই সমীকরণ মেলানো যে এখনও কঠিনই রয়ে গেছে, তা স্পষ্ট।