এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে দারুণ একতরফা জয়ে উইগান অ্যাথলেটিককে উড়িয়ে দিয়ে পঞ্চম রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে Arsenal। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটেই চার গোল করে কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা দলটি।
শুরু থেকেই লিগ ওয়ানের প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আর্সেনাল। ১১তম মিনিটে মাঝমাঠের কাছ থেকে দুর্দান্ত থ্রু পাস দেন এবেরেচি এজে, সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ফিনিশে গোলরক্ষক স্যাম টিকলেকে পরাস্ত করেন নোনি মাদুয়েকে। সাত মিনিট পর আবারও এজের নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
এরপর বুকায়ো সাকা ও মাদুয়েকের সমন্বিত আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে উইগান ডিফেন্ডার জ্যাক হান্ট আত্মঘাতী গোল করলে ব্যবধান হয় ৩–০। চতুর্থ গোলটি আসে ক্রিশ্চিয়ান নরগার্ডের পাস থেকে, যেখানে গ্যাব্রিয়েল জেসুস চিপ শটে বল জালে জড়ান। ম্যাচের প্রথম আধাঘণ্টায় চার গোল করে আর্সেনাল এফএ কাপের ইতিহাসে প্রথম প্রিমিয়ার লিগ দল হিসেবে এমন কীর্তি গড়ে।
উইগান বিরল কিছু আক্রমণ গড়লেও গোল পায়নি। গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগা জো টেলরের শট দারুণভাবে রুখে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনালের বদলি ভিক্টর গিওকেরেস পোস্টে আঘাত করেন।
এই জয়ে ছয় বছর পর আবারও এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে উঠল আর্সেনাল। ২০২০ সালে শেষবার এ প্রতিযোগিতা জিতেছিল দলটি, যা ছিল কোচ Mikel Arteta-এর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মৌসুমের শিরোপা।
ইনজুরির কারণে রিকার্দো কালাফিওরি ছিটকে পড়ায় শেষ মুহূর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া সাকা এদিন অপরিচিত সেন্ট্রাল মিডফিল্ড ভূমিকায় খেলেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যেই খেলাটি গড়ে দেন। হিপ ইনজুরি থেকে ফেরার পর ম্যাচ ফিটনেস বাড়ানোর পথে থাকা ইংল্যান্ড তারকার জন্য এটি ইতিবাচক দিন ছিল।
কাপ প্রতিযোগিতায় এ মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখলেন মার্টিনেল্লিও। প্রিমিয়ার লিগে মাত্র এক গোল করা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এখন ইউরোপ ও কাপ মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে ১০ গোল করেছেন। ১৯৯৪–৯৫ মৌসুমে Ian Wright-এর পর এক মৌসুমে কাপ ও ইউরোপে ১০ বা তার বেশি গোল করা প্রথম আর্সেনাল খেলোয়াড়ও তিনি।
ম্যাচে তরুণদেরও সুযোগ দেন আর্তেতা। ১৬ বছর বয়সী মার্লি স্যামন ঘরের মাঠে অভিষেক করেন, আর ১৯ বছর বয়সী গোলরক্ষক টমি সেটফোর্ডও দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন। সপ্তাহের মাঝামাঝি ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে বদলি হওয়া এজেও এদিন দুই অ্যাসিস্ট করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান।
সহজ এই জয়ে চার প্রতিযোগিতাতেই টিকে থাকল আর্সেনাল। ছয় বছরের শিরোপাখরা কাটাতে মৌসুমের বাকি সময়েও ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য এখন তাদের।
